- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৫ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলে দ্বিতীয়বারের জন্য সফর করতে যাচ্ছেন। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে নরেন্দ্র মোদি-এর প্রথম সফর ইসরায়েলে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়, যখন কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার সরাসরি দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
সফরের উদ্দেশ্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের জন্য কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা শক্তিশালী করার সুযোগ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বিস্তারেরও একটি অংশ।
২০১৭ সালের সফরের সময়, নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতান্যাহুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূচনা ঘটে। দুই নেতা একটি “প্রকল্পিত বন্ধুত্ব” ও কৌশলগত সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করেন। সেই সফরের পর থেকে ভারতের সামরিক ক্রয় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইসরায়েলের দিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২৪ সালে ইসরায়েল-এর গাজা সংঘাত চলাকালীন ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি রকেট ও বিস্ফোরক সরবরাহ করেছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গভীর করবে না, বরং ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক ইমেজকে সমর্থন দেবে। ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মতে, মোদি-নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় কূটনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯২ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল মাত্র ২ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। ভারত এখন ইসরায়েলের এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, যেখানে ডায়মন্ড, পেট্রোলিয়াম ও রাসায়নিক পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যদিও ভারত এখনও ফিলিস্থিন-এর জন্য দুই রাষ্ট্রের সমাধান ও সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে, কিন্তু ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় ভারত সীমিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত তার “স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি” বজায় রেখেই মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতিতে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মোদি সফর ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং ওয়াশিংটনে তার প্রভাব বাড়াবে। পাশাপাশি এটি ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থেকে রক্ষা করার একটি কৌশলও হিসেবে দেখা যেতে পারে।