Friday, June 12, 2026

দক্ষিণ লেবাননের সামুদ্রিক সীমা নিয়ে ইসরায়েলের ‘বাফার জোন’ ঘোষণা


ছবিঃ ভূমধ্যসাগরে একটি ইসরায়েলি 'বাফার জোন' এবং সম্ভাব্য সম্পদ দখলের সাথে জড়িত একটি উল্লেখযোগ্য সামুদ্রিক ভূখণ্ডগত বিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /ইয়ারা নার্দি/ রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

দক্ষিণ লেবাননে একটি “নিরাপত্তা বাফার জোন” আরোপ করে তা ভূমধ্যসাগরের জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করার ইসরায়েলি সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি লেবাননের সামুদ্রিক সীমানা দখলের একটি প্রচেষ্টা হতে পারে, যেখানে সম্ভাব্য তেল ও গ্যাস সম্পদের মজুদ রয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র অবিচাই আদ্রাই গত ১৯ এপ্রিল একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে “ইয়েলো লাইন” নামে একটি সীমারেখা দেখানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির কয়েক দিন পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ইসরায়েল দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর হামলা ঠেকাতে সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত এই বাফার জোন প্রয়োজন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, বরং লেবাননের সমুদ্রসম্পদ নিয়ন্ত্রণের কৌশলও হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নির্ধারিত সীমারেখা লেবাননের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)-এর ভেতরে প্রবেশ করেছে, যেখানে কানা গ্যাস ফিল্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ব্লক রয়েছে। বিশেষ করে ব্লক-৮ ও ব্লক-৯ এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

লেবানন ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমা নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ওই চুক্তির আওতায় দুই দেশ নির্দিষ্ট সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে এবং সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। কিন্তু নতুন মানচিত্র সেই চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের উপকূলীয় জলসীমা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল তার সার্বভৌম অধিকারের মধ্যে পড়ে।

এদিকে লেবাননের জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অফশোর গ্যাস সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সীমিত অনুসন্ধান কার্যক্রম চালু থাকলেও এখনো উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়নি।

ইসরায়েলি পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই বাফার জোনের উদ্দেশ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা। তবে লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন মানচিত্র পূর্বের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সামুদ্রিক সীমা চুক্তিকে প্রভাবিত করে না।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননের স্থল ও সমুদ্র উভয় অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা ভবিষ্যতে পুরো পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন