- ২১ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টায়ার (Tyre) ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে হাজারো মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। হঠাৎ করে জারি করা সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তায় পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
টায়ারের এল-বাস এলাকায় বসবাসকারী এম সাঈদ জানান, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আসার পর এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অনেক মানুষ দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন, কেউ কেউ অর্ধনগ্ন অবস্থাতেও নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছুটতে থাকেন।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন স্থানীয়রা সতর্কতা হিসেবে গুলি ছুড়ে মানুষকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করে। এতে রাস্তায় যানজট ও আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
পরিবারসহ অনেকেই প্রথমে টায়ারের বন্দরে আশ্রয় নেয়, পরে সেখান থেকে রাজধানী বৈরুতের দিকে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবে কয়েক মিনিটের পথ হলেও আতঙ্ক ও ভিড়ের কারণে এই যাত্রা তিন ঘণ্টার বেশি সময় নেয়।
বৈরুতে পৌঁছে অনেকেই অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিলেও নিরাপত্তাহীনতা ও নতুন করে হামলার আশঙ্কায় বারবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।
সংঘাতের কারণে লেবাননের প্রায় ২০ শতাংশের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ লেবানন, বেকা উপত্যকার কিছু অংশ এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বোমাবর্ষণের ভয় থাকা সত্ত্বেও বাস্তুচ্যুত জীবনের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপ তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। অস্থায়ী বাসস্থানের উচ্চ ভাড়া এবং বৈষম্যমূলক আচরণও অনেককে নিজ এলাকায় থেকে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
একজন স্থানীয় তরুণী জানান, আগের বাস্তুচ্যুত অভিজ্ঞতার কারণে তিনি আবারও বাড়ি ছাড়তে চাননি। তার মতে, যুদ্ধের ভয়ে থেকেও বাস্তুচ্যুত জীবনের মানসিক চাপ অনেক সময় বেশি কষ্টকর হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসের কারণে অনেক পরিবার তাদের জমি ও ঘরের সঙ্গে গভীর আবেগগত সম্পর্ক অনুভব করে, যা তাদের এলাকা ছাড়তে আরও অনিচ্ছুক করে তোলে।
সংঘাত চলাকালে দক্ষিণ লেবাননে অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতু, সড়ক এবং আবাসিক ভবনগুলোতে হামলার কারণে অনেক এলাকা দেশের অন্যান্য অংশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে একাধিক দফায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালানো হয়, যাতে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজারো মানুষ আহত হয়।
এক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও বাস্তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। যুদ্ধবিরতির শেষ মুহূর্তেও হামলার খবর পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানায়।
টায়ারের এক বাসিন্দা জানান, যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা আসার আগ মুহূর্তেও আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত লেবাননে মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করছে। বাস্তুচ্যুতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।