- ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুমিল্লা
ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নাশকতার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মহাসড়কের ১৪টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী ডিসেম্বরকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহন ভাঙচুর, ককটেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করছে। এসব তৎপরতা ঠেকাতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও মাঠে কাজ করছে।
ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৪টি স্থান হলো দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর, ইলিয়টগঞ্জ, পুটিয়া, তীরচর ও গোমতা; চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ও কাঠেরপুল; বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও কাবিলা; আদর্শ সদর উপজেলার সৈয়দপুর, আলেখারচর ও কোটবাড়ী; সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশঙ্কা, এসব এলাকার নির্জন স্থানে রাতের বেলায় দূরপাল্লার যানবাহন লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর কিংবা আগুন দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক যোগাযোগপথে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ প্রায় ১০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। দেশের অর্থনীতি ও পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার নজির রয়েছে। সে কারণে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মহাসড়কে নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন নজরদারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশও সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। চিহ্নিত ১৪টি স্থানসহ পুরো ১০৩ কিলোমিটার এলাকায় দিন-রাত টহল ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। যানবাহন ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা প্রতিরোধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে মহাসড়কে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে যাত্রী, চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।