Saturday, June 20, 2026

ডিজিটাল ওয়ালেটে নতুন ঝুঁকি: কার্ড সংযোজন প্রক্রিয়া এখন প্রতারকদের নিশানায়


ছবিঃ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

পেমেন্ট নিরাপত্তা জোরদারে গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চিপভিত্তিক কার্ড, টোকেনাইজেশন প্রযুক্তি এবং বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ ব্যবস্থার কারণে অনেক ধরনের আর্থিক জালিয়াতি কমে এসেছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকরাও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। এখন তাদের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ডিজিটাল ওয়ালেটে কার্ড যুক্ত করার প্রক্রিয়া, যা ‘কার্ড প্রভিশনিং’ নামে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন গ্রাহক যখন নিজের ব্যাংক কার্ড কোনো ডিজিটাল ওয়ালেটে যুক্ত করেন, তখন দ্রুত ও সহজ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে একটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রতারকরা মূলত এই ধাপটিকেই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। চুরি হওয়া কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ডিভাইসে কার্ড যুক্ত করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক প্রকৌশল (সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) বা ফিশিং কৌশল ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে কার্ডধারীর ঝুঁকি কম বলে বিবেচিত হলে অতিরিক্ত যাচাইকরণ ছাড়াই কার্ড ডিজিটাল ওয়ালেটে যুক্ত হয়ে যেতে পারে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা বৈধ ব্যবহারকারীর পরিচয়ে ডিজিটাল টোকেন তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে।

একবার কোনো চুরি হওয়া কার্ড ডিজিটাল ওয়ালেটে যুক্ত হয়ে গেলে তা পরবর্তী লেনদেন ব্যবস্থায় বৈধ টোকেন হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে প্রতারণামূলক লেনদেন শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতির দায় বহন করতে হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পেমেন্ট অবকাঠামোয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো তথ্যের বিচ্ছিন্নতা। ডিজিটাল ওয়ালেট প্রদানকারী, কার্ড নেটওয়ার্ক, প্রসেসর এবং ইস্যুকারী ব্যাংক—প্রত্যেকেই আলাদা স্তরে তথ্য নিয়ে কাজ করে। ফলে প্রতারণা শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য সব সময় এক জায়গায় থাকে না।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন সমাধান নিয়ে এসেছে, যেখানে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক বা ফিনটেক প্রতিষ্ঠানকে প্রভিশনিং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনা হচ্ছে। এতে গ্রাহকের ডিভাইস ইতিহাস, ব্যবহারগত আচরণ এবং অন্যান্য ঝুঁকি-সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে কার্ড অনুমোদন, বাতিল বা অতিরিক্ত যাচাইকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থাগুলোতে সন্দেহজনক অনুরোধের ক্ষেত্রে দ্বি-স্তর যাচাইকরণ (২এফএ) কিংবা অ্যাপভিত্তিক পরিচয় নিশ্চিতকরণের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রতারণার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি প্রকৃত গ্রাহকের জন্যও নিরাপদ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ওয়ালেটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হবে। তাই শুধু লেনদেন পর্যায়ে নয়, কার্ড যুক্ত করার প্রাথমিক ধাপ থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, ব্যাংক, কার্ড নেটওয়ার্ক, ওয়ালেট সেবা প্রদানকারী এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে পারে।

ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার প্রতারণার ধরনও বদলাচ্ছে। ফলে নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর এবং তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন