- ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
চলতি বিগ ব্যাশ লিগে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে না পারায় আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম। অবশেষে জাতীয় দলের দায়িত্বে যোগ দিতে গিয়ে টুর্নামেন্ট মাঝপথেই শেষ হলো তার অস্ট্রেলিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি অভিযান।
এবারের বিগ ব্যাশে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে ১১ ম্যাচে ১১ ইনিংস ব্যাট করেন বাবর। ১৯৬ বল খেলে করেন ২০২ রান, গড় ছিল ২২.৪৪ এবং স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০৩.০৬। দুটি ফিফটি পেলেও টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে তার ব্যাটিংকে ধীরগতির বলে মনে করছেন অনেকেই। অন্তত ১০ ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাবরের চেয়ে কম স্ট্রাইক রেট ছিল কেবল পাকিস্তানের আরেক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের।
এই পারফরম্যান্সের কারণে সিডনি সিক্সার্সের একাদশ থেকে বাবরকে বাদ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার মার্ক ওয়াহ সরাসরি সম্প্রচারেই বলেন, “বাবর বিশ্বমানের খেলোয়াড়, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ফরম্যাটে সে দলের জন্য যথেষ্ট অবদান রাখতে পারেনি। দুঃখজনক হলেও নতুন ওপেনারের কথা ভাবা উচিত।”
মজার ব্যাপার হলো, ওয়াহর এই মন্তব্যের ঠিক একদিন পরই বাবরের বিগ ব্যাশ অধ্যায়ের ইতি ঘটে। সিডনি সিক্সার্স নিশ্চিত করেছে, ২৯ জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ সামনে রেখে পাকিস্তান জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার ডাক পেয়েছেন বাবর। ফলে টুর্নামেন্টের বাকি অংশে তাকে আর পাওয়া যাবে না।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এটিই ছিল বাবর আজমের প্রথম অংশগ্রহণ। তবে শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত এই ফরম্যাটে চার ও ছক্কার অভাবে তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবারের বিগ ব্যাশে অন্তত ১০ ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭টি ছক্কা মেরেছেন পার্থ স্কচার্সের ফিন অ্যালেন। বিপরীতে বাবর ১১ ইনিংসে মেরেছেন মাত্র ৩টি ছক্কা এবং ১৯টি চার—যা তাকে ছক্কা মারার তালিকায় একেবারে নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিদায়ী বার্তায় বাবর সিডনি সিক্সার্স ও তাদের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই দলে সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এখানে খেলাটা উপভোগ করেছি। তবে দেশের হয়ে খেলার ডাক আসায় আমাকে দল ছাড়তে হচ্ছে।”
এদিকে সিডনি সিক্সার্স আগামীকাল রিশাদ হোসেনের হোবার্ট হারিকেনসের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জার ফাইনালে মাঠে নামবে। সেই ম্যাচের জয়ী দল রোববার পার্থ স্কচার্সের বিপক্ষে ফাইনালে লড়বে।
অন্যদিকে, লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেই আসন্ন বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পাকিস্তান দল, যেখানে বাবরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে নজর থাকবে ক্রিকেটভক্তদের।