- ০৮ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে নতুন নীতিগত উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব সড়ক করিডোরে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, সেখানে ব্যক্তিগত যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘কনজেশন চার্জ’ বা যানজট শুল্ক আদায় করা হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমবে এবং গণপরিবহনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এবং আধুনিক বাসসেবা চালু থাকা নির্দিষ্ট করিডোরে প্রবেশকারী প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল এবং কিছু শ্রেণির যানবাহনের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত ফি আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল ব্যবস্থায়।
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত নগরীতে বহু বছর ধরেই যানজট নিয়ন্ত্রণে কনজেশন চার্জ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশের জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপ কমে এবং গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই ঢাকার জন্যও একই ধরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে না তুলে এ ধরনের শুল্ক চালু করলে প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না। তাদের মতে, মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহনে আসতে হলে আগে নিরাপদ, সময়নিষ্ঠ ও আরামদায়ক বিকল্প নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অতিরিক্ত আর্থিক চাপ জনভোগান্তি বাড়াতে পারে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, কনজেশন চার্জ কার্যকর করতে হলে প্রথম শর্ত হলো উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা। মেট্রোরেল, বিআরটি এবং বাসসেবার সমন্বিত নেটওয়ার্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে, যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারেন। তিনি ট্রাকের ওপর যানজট শুল্ক আরোপের ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানিয়েছে, রাজধানীর যানজট কমাতে এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। সংস্থাটির মতে, ধাপে ধাপে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে ২০ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এমআরটি-১ থেকে এমআরটি-৬ পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন শহরের আদলে নির্বাচিত করিডোরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানজট শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তবে কোন এলাকায় এ ব্যবস্থা আগে কার্যকর হবে কিংবা কত টাকা শুল্ক নির্ধারণ করা হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, অর্থায়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে কনজেশন চার্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও পরিকল্পিত ও টেকসই করার পথও সুগম হবে।