- ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন এমন গুঞ্জনই এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে নগরের কাট্টলী এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে সাক্ষাতের পর জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন?
তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এনসিপির নেতারা প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি দলীয় আলোচনায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির কোনো প্রার্থী না থাকলে জামায়াতে ইসলামী বা এনসিপির প্রার্থীই বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনজুর আলম যদি এনসিপির প্রার্থী হন, তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে। দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর একটি ব্যক্তিগত ভোটভিত্তি রয়েছে। পাশাপাশি অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে দলটির কিছু সমর্থনও তিনি পেতে পারেন।
এ বিষয়ে মনজুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় বলেন, মনজুর আলমের দলটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। স্থানীয় নির্বাচনে জোট গঠনের বিষয়েও কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় এনসিপির সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম।
উল্লেখ্য, মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাকে সক্রিয় দেখা গেছে।