- ০১ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয়েছিল ম্যাচ। তবে মাঠে বল গড়ানোর পর অপেক্ষার হতাশা ভুলিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। একই সঙ্গে চার দশক ধরে চলা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়হীনতার অধ্যায়ও শেষ করেছে দলটি।
বুধবার (১ জুলাই) আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধেই দুই গোল করে জয়ের ভিত গড়ে নেয় মেক্সিকো। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নিশ্চিত করে কাঙ্ক্ষিত জয়।
বিশ্বকাপের আগে সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে স্বাগতিক হয়েছিল মেক্সিকো। সেই আসরে শেষ ষোলোয় বুলগেরিয়াকে ২-০ গোলে হারানোর পর আর কোনো নকআউট ম্যাচে জয় পায়নি উত্তর আমেরিকার দলটি। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা সাতটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর গণ্ডিই পেরোতে পারেনি তারা। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ২২ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণ থেকে জুলিয়ান কিনিওনেস শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।
এর মাত্র নয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমিনেজ। বক্সের ভেতরে কিনিওনেসের নিখুঁত পাস পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে বলের দখল ছিল ইকুয়েডরেরই বেশি। তারা প্রায় ৫৬ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখলেও সেই আধিপত্য কাজে লাগাতে পারেনি। পুরো ম্যাচে মাত্র পাঁচটি শট নিতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি, যার মাত্র একটি লক্ষ্যভেদ করে। বিপরীতে মেক্সিকো ১৪টি শট নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে।
যোগ করা সময়ের শেষ দিকে ইকুয়েডরের দুর্দশা আরও বাড়ে। মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সময় আচরণের কারণে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সেন্টারব্যাক পিয়েরো হেনকাপিয়ে।
এই ম্যাচে ইতিহাসও গড়েছেন মেক্সিকোর ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। কোচ তাকে শুরুর একাদশে রেখে মাঠে নামালে তিনি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে প্রথম একাদশে খেলার কীর্তি গড়েন।
এই জয়ে শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। আগামী রোববার মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গো। সেই প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচের ফলাফলের পর।