- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
মুক্তির পর থেকেই দর্শক টানছে আদিত্য ধর পরিচালিত রাজনৈতিক স্পাই-থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’। ৫ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে আসার পর মাত্র সাত দিনের মধ্যেই সিনেমাটি ২০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তবে আর্থিক সাফল্যের পাশাপাশি সিনেমাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক—দেশে-বিদেশে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সপ্তাহেই ভারতে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০৭ কোটি রুপি। এর মাধ্যমে পরিচালক আদিত্য ধর তাঁর আগের সফল ছবি ‘উরি’–এর রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলার দিকেই এগোচ্ছেন, যার মোট আয় ছিল ২৪৪ কোটি রুপি।
সিনেমার গল্পের সূচনা হয় ১৯৯৯ সালের কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের প্রেক্ষাপট দিয়ে। এরপর ধাপে ধাপে উঠে আসে ভারতের পার্লামেন্টে হামলা ও মুম্বাইয়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী আক্রমণের প্রসঙ্গ। গল্পে দেখানো হয়, সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে প্রচলিত কৌশল ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা নেয় ভিন্ন পথ।
এই প্রেক্ষাপটে করাচির লিয়ারি এলাকায় ছদ্মবেশে প্রবেশ করে এক ভারতীয় গুপ্তচর—হামজা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং। জটিল রাজনৈতিক ও অপরাধজগতের ভেতর ঢুকে সন্ত্রাস নির্মূলের এই অভিযানে একের পর এক বিপদের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
টানটান উত্তেজনা, উচ্চমাত্রার অ্যাকশন এবং শক্তিশালী অভিনয়ের কারণে দর্শক ও একাংশ সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে সিনেমাটি। রণবীর সিং ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, আর. মাধবন, অর্জুন রামপাল ও সারা অর্জুন। বিশেষ করে অক্ষয় খান্নার রহস্যময় চরিত্র নিয়ে আলোচনার শেষ নেই।
সিনেমার অন্যতম বিতর্কের জায়গা হলো—এর চরিত্রগুলো বাস্তব কাউকে অনুসরণ করে কি না। অক্ষয় খান্না অভিনীত চরিত্রটির সঙ্গে পাকিস্তানের কুখ্যাত অপরাধী রেহমান ডাকাত–এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। একইভাবে, রণবীর সিংয়ের চরিত্র হামজার সঙ্গে প্রয়াত ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা মেজর মোহিত শর্মা–এর সাদৃশ্য নিয়েও বিতর্ক উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে নির্মাতারা জানিয়েছেন, সিনেমাটি কোনো নির্দিষ্ট বাস্তব ব্যক্তিকে অবলম্বন করে তৈরি নয়।
সিনেমাটির উপস্থাপন নিয়ে পাকিস্তানেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, করাচির অপরাধজগত ও গ্যাং দ্বন্দ্বকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করে অতিরঞ্জিতভাবে দেখানো হয়েছে। তাদের দাবি, বাস্তবে এসব ঘটনা ছিল মূলত স্থানীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের ফল।
‘ধুরন্ধর’-এ অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও পুরুষতান্ত্রিক উপস্থাপনার অভিযোগ তুলে যাঁরা নেতিবাচক রিভিউ দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ ও আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রখ্যাত সমালোচক অনুপমা চোপড়া তাঁর ভিডিও রিভিউ সরিয়ে নিতে বাধ্য হন, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়।
সিনেমাটির প্রশংসা করে দেওয়া এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামান্য দ্বিমত প্রকাশ করায় ট্রলের মুখে পড়েছেন অভিনেতা হৃতিক রোশন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা পরে আরও জটিল রূপ নেয়।
সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ এখন শুধু একটি সিনেমা নয়—একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বক্স অফিসে সাফল্য যেমন অব্যাহত, তেমনি সমালোচনা ও বিতর্কও থামার কোনো লক্ষণ নেই। নির্মাতারা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বছর মুক্তি পাবে ‘ধুরন্ধর ২’। তার আগ পর্যন্ত এই সিনেমা ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।