- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বসংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা বিয়ন্সে এবার বিলিয়নিয়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। ফোর্বসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, তিনি সংগীতশিল্পীদের মধ্যে পঞ্চম ব্যক্তি হিসেবে এক বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। এর আগে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন তাঁর স্বামী জে–জেড, টেইলর সুইফট, ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও রিয়ানা।
সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বিয়ন্সের ক্যারিয়ার ছিল অভাবনীয় সাফল্যে ভরা। ২০২৩ সালে তাঁর ‘রেনেসাঁ ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ বিশ্বজুড়ে বিপুল সাড়া ফেলে এবং প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে প্রকাশিত কান্ট্রি ঘরানার অ্যালবাম ‘কাউবয় কার্টার’ তাঁকে নিয়ে যায় নতুন উচ্চতায়। এই অ্যালবাম ঘিরেই ২০২৫ সালে শুরু হওয়া ট্যুরটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা কনসার্ট ট্যুরগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
২০০৮ সালে বিয়ন্সে গড়ে তোলেন নিজের বিনোদন প্রতিষ্ঠান ‘পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট’। এই প্রতিষ্ঠানই তাঁর সংগীত, কনসার্ট, তথ্যচিত্র ও বিভিন্ন সৃজনশীল প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রযোজনার দায়িত্ব পালন করে। ফোর্বস জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজনার বড় অংশের খরচ নিজেই বহন করে পার্কউড, ফলে মুনাফার বড় অংশও প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকে। এতে বিয়ন্সে অন্য অনেক শিল্পীর তুলনায় আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হয়েছেন।
ব্যবসাবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কাউবয় কার্টার’ ট্যুরে শুধু টিকিট বিক্রি থেকেই আয় হয়েছে ৪০০ মিলিয়নের বেশি ডলার। এর সঙ্গে কনসার্টে বিক্রি হওয়া পণ্যসামগ্রী যোগ হয়ে আয় দাঁড়ায় আরও প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার। যেহেতু পুরো ট্যুরটির প্রযোজনা ছিল পার্কউডের হাতে, তাই এই আয়ের বড় অংশ সরাসরি বিয়ন্সের সম্পদে যুক্ত হয়েছে।
বিয়ন্সের আয়ের উৎস কেবল সংগীতে সীমাবদ্ধ নয়। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া তথ্যচিত্র ‘হোমকামিং: আ ফিল্ম বাই বিয়ন্সে’ থেকে তিনি নেটফ্লিক্সের কাছ থেকে আনুমানিক ৬০ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক পান। এ ছাড়া ২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত ক্রিসমাস ডে এনএফএল ম্যাচের হাফটাইম শোতে পারফর্ম করে তিনি আরও প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। ‘রেনেসাঁ ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ নিয়ে নির্মিত কনসার্ট ফিল্মটিও বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করে, যার বড় অংশ বিয়ন্সের ঝুলিতে যায়।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কনসার্ট ট্যুর, সংগীত ক্যাটালগ এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি মিলিয়ে কর পরিশোধের আগেই বিয়ন্সের আয় ছিল প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে তিনি ওই বছর বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া সংগীতশিল্পী হন।
সৃজনশীলতা, ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা ও কৌশলী বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে বিয়ন্সে এখন কেবল একজন তারকা নন, বরং বিশ্বের প্রভাবশালী ধনকুবেরদের একজন। সংগীত ইতিহাসে তাঁর এই অর্জন নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।