- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউডে তিনি পরিচিত ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ নামে। পর্দায় তাঁর অভিনয় মানেই নিখুঁত পরিকল্পনা আর গভীর প্রস্তুতি। তবে বাস্তব জীবনে আমির খান যে কতটা আবেগপ্রবণ ও রোমান্টিক মানুষ, সে কথা সম্প্রতি নিজেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে অংশ নিয়ে আমির কথা বলেছেন তাঁর প্রেম, সম্পর্ক, ব্যক্তিগত ব্যর্থতা ও নতুন জীবনের অধ্যায় নিয়ে।
অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে আমির খান বলেন, বাস্তবে রোমান্টিক মানুষ কে নয়? হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “এই পৃথিবীতে এমন কাউকে দেখান তো, যে রোমান্টিক নয়। সবাই রোমান্টিক, আমিও ভীষণ রোমান্টিক।” এরপর নিজের জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক—রীনা দত্ত, কিরণ রাও ও বর্তমান সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটের কথা তুলে ধরেন তিনি। আমিরের ভাষায়, এই তিনজন মানুষই তাঁর জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।
মাত্র ২১ বছর বয়সে, ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করেন আমির খান। সেই সময় দুজনই ছিলেন জীবনের একেবারে শুরুতে। ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর বাস্তবতার সংগ্রাম—সবকিছু একসঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তাঁরা। এই দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুই সন্তান—জুনায়েদ ও ইরা। আমির বলেন, রীনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে।
শৈশবে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা হয়ে ওঠা—আমির খানের পথচলা সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুতেই একাধিক ব্যর্থ ছবির মুখোমুখি হন তিনি। তবে সেই ব্যর্থতাই তাঁকে আরও সতর্ক, চিন্তাশীল ও আলাদা করে তোলে। ‘লগান’, ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘দঙ্গল’, ‘পিকে’—এমন সব ছবির মাধ্যমে তিনি নিজের আলাদা অবস্থান গড়ে নেন।
তবে ক্যারিয়ারের সাফল্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে কিছু অপূর্ণতার কথাও স্বীকার করেন আমির। তিনি বলেন, পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার আফসোস আজও তাঁকে তাড়া করে ফেরে।
রীনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। এই সম্পর্কেও ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৃজনশীল বোঝাপড়া। তাঁদের একমাত্র সন্তান আজাদ। ২০২১ সালে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তাঁরা জানিয়েছেন, সম্পর্কের শেষ হলেও বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। আমিরের কথায়, “স্বামী–স্ত্রী হিসেবে আলাদা হয়েছি, মানুষ হিসেবে নয়।”
দুটি দীর্ঘ দাম্পত্যের পর আমির ভেবেছিলেন, তাঁর জীবনে আর নতুন করে প্রেম আসবে না। কিন্তু চলতি বছর জন্মদিনে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন তাঁর নতুন সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে। গৌরীর উপস্থিতি আমিরের জীবনে শান্তি ও ভারসাম্য এনে দিয়েছে বলে জানান তিনি। আমির বলেন, “ভাবিনি আবার ভালোবাসা আসবে। কিন্তু গৌরী আমার জীবনে এক ধরনের প্রশান্তি নিয়ে এসেছে।”
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই নতুন সম্পর্ক পুরোনো সম্পর্কগুলোর সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি করেনি। বরং আমিরের মতে, রীনা, কিরণ, গৌরী ও তাঁদের পরিবার মিলেই এখন একটি বড় পরিবার।
নিজের জীবন নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমির খান বলেন, “বিবাহিত জীবন দুবার সফল হয়নি, কিন্তু এই তিনজন মানুষকে পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।” তাঁর জীবনের গল্পে যেমন আছে সাফল্য, তেমনি আছে ভুল, ভাঙন আর আবার শুরু করার সাহস।
সমালোচকদের মতে, আমির খান শুধু পর্দার পারফেকশনিস্ট নন, বাস্তব জীবনেও তিনি একজন সংবেদনশীল মানুষ—যিনি ভাঙা জায়গা থেকেই নতুন আলো খুঁজে নিতে জানেন।