- ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর কার্যালয় খোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা নিয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করার সাহস পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একধরনের সমঝোতা হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা হলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, প্রশাসন যদি অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধে ব্যর্থ হয়, তবে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকেও দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তিনি দলীয়করণ বন্ধ রেখে স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম পরিচালনার আহ্বান জানান।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্রুত শপথ গ্রহণ এবং জাতীয় সংসদ ও সংস্কার পরিষদের অধিবেশন একসঙ্গে আহ্বানের দাবিও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংস্কার পরিষদ ছাড়া বর্তমান সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে।
এ ছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, পুলিশ বাহিনীতে দলীয় প্রভাব বন্ধ, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মব সংস্কৃতি দমন, মাজার ভাঙচুরের বিচার এবং নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। আসন্ন রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন সরকারের ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, মন্ত্রিসভায় প্রত্যাশিত পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেনি। আঞ্চলিক ভারসাম্য, নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন পেশার অংশগ্রহণ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রিসভার বড় একটি অংশ ব্যবসায়ী হওয়াকে তিনি ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে মন্ত্রিসভায় কয়েকজন অভিজ্ঞ ও ইতিবাচক ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের বার্তা এই মন্ত্রিসভা দিতে পারেনি।
গণভোট–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোট বাতিল হলে সংসদ নির্বাচন ও সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া সেটআপ পরিবর্তন না করে বরং সক্ষমতা বাড়ানো উচিত।