- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউডের কৌতুক জগতে নকল বা মিমিক্রি নতুন কিছু নয়। তবে যখন অনুকরণ শুধু কণ্ঠ বা অঙ্গভঙ্গিতে সীমাবদ্ধ না থেকে চরিত্রের আত্মায় পৌঁছে যায়, তখন সেটি আলাদা মাত্রা পায়। এমনই এক পারফরম্যান্সে সম্প্রতি আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী সুনীল গ্রোভার।
নেটফ্লিক্সে প্রচারিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’–এর একটি পর্বে বলিউড তারকা আমির খানকে অনুকরণ করে সুনীল যে অভিনয় উপস্থাপন করেছেন, তা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দর্শকের প্রশংসার পাশাপাশি এবার খোদ আমির খানের মুখেও শোনা গেল প্রশংসার কথা।
এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের অনুকরণ প্রসঙ্গে আমির খান বলেন, তিনি একে মিমিক্রি বলতে নারাজ। আমিরের ভাষায়, “ওটা মিমিক্রি ছিল না, একেবারে অভিনয়। মনে হচ্ছিল আমি নিজেই পর্দায় বসে আছি। ক্লিপটা দেখে এত জোরে হেসেছি যে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।” তিনি আরও বলেন, এই অভিনয়ে কোনো বিদ্রূপ ছিল না, ছিল নিখাদ আনন্দ।
ওই পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্তিক আরিয়ান ও অনন্যা পান্ডে। তাঁদের সামনেই সুনীল গ্রোভার মঞ্চে ফুটিয়ে তোলেন আমির খানের কথা বলার ধরন, হাঁটাচলা, পোশাকের স্টাইল, চোখের ভাষা এমনকি ক্যামেরার সামনে পাপারাজ্জিদের সঙ্গে তাঁর আচরণও। নিজের চরিত্রের নাম দেন ‘উনিশ–বিশ আমির’, যা দর্শকের হাসির খোরাক হয়ে ওঠে। আমিরের ব্যক্তিজীবনের কিছু পরিচিত দিকও তিনি হালকা রসিকতায় তুলে ধরেন, যা পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই অভিনয় ঘিরে অনলাইনেও প্রশংসার বন্যা বইছে। কেউ লিখেছেন, “এটা নকল নয়, চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার ফল।” আবার অনেকেই বলছেন, মুখভঙ্গি ও অভিব্যক্তির নিখুঁততায় এক মুহূর্তের জন্য বিভ্রান্তি তৈরি হয়—আসল আমির না সুনীল!
এর আগেও সুনীল গ্রোভার এমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন। একবার জনপ্রিয় গেম শো ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’র উপস্থাপকের ভঙ্গিতে অমিতাভ বচ্চনকে অনুকরণ করে মঞ্চে পারফর্ম করেছিলেন তিনি। সেই অভিনয় দেখে অমিতাভ নিজেও প্রকাশ্যে তাঁর প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, কপিল শর্মার সঞ্চালনায় এই শোর যাত্রা শুরু হয়েছিল টেলিভিশনে ২০১৪ সালে। দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সাল থেকে এটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে স্থান পায় এবং নতুন নাম পায় ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’। বর্তমানে নেটফ্লিক্সে প্রতি শনিবার অনুষ্ঠানটির নতুন পর্ব মুক্তি পাচ্ছে। শোতে কপিল শর্মার সঙ্গে নিয়মিত দেখা যায় কিকু শারদা, কৃষ্ণা অভিষেক, নভজোৎ সিং সিধু ও অর্চনা পূরণ সিংকে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, প্রতি পর্বে সুনীল গ্রোভার পারিশ্রমিক হিসেবে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ পান।
বিশ্লেষকদের মতে, সুনীল গ্রোভারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—তিনি কাউকে ব্যঙ্গ বা অপমান করেন না। গভীর পর্যবেক্ষণ ও অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে চরিত্রকে সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করেন। আর সেখানেই তাঁর মিমিক্রি হয়ে ওঠে অভিনয়, আর অভিনয় হয়ে ওঠে শিল্প।