- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউডে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও জীবনের এক পর্যায়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এমন এক সময় এসেছিল যখন তাঁর ব্যাংক হিসাবে ছিল মাত্র ৪০০ রুপি, আর বাড়ি ও অফিস—দুটিই বন্ধক রাখা ছিল।
১৯৮৪ সালে মহেশ ভাট পরিচালিত ‘সারাংশ’ চলচ্চিত্রে মাত্র ২৮ বছর বয়সে একজন অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন অনুপম খের। প্রথম ছবিতেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়ালেও তাঁর ক্যারিয়ার সব সময় মসৃণ ছিল না। দুই দশক ধরে একের পর এক সফল সিনেমায় কাজ করার পর ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও টেলিভিশনভিত্তিক উদ্যোগে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।
একটি ইউটিউব অনুষ্ঠানে দেওয়া স্মৃতিচারণায় অনুপম জানান, ২০০৪ সালের দিকে তিনি কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েছিলেন। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছিল। এক পর্যায়ে তাঁর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট জানিয়ে দেন, ব্যাংক হিসাবে অবশিষ্ট আছে মাত্র ৪০০ রুপি। সেই সময় সুদের বোঝা সামলাতে গিয়ে নিজের বাড়ি ও অফিস বন্ধক রাখতে বাধ্য হন তিনি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল—এই আর্থিক বিপর্যয়ের সময়েও তিনি একাধিক বড় বাজেটের সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বাইরের দুনিয়ার চোখে তিনি ছিলেন একজন সফল তারকা, অথচ বাস্তবে প্রতিদিন লড়াই করছিলেন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য।
তবে হাল ছাড়েননি অনুপম খের। ধীরে ধীরে আবার নিজের অবস্থান পুনর্গঠন করেন। নতুন করে আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট, ওয়েব সিরিজ ও ভিন্নধর্মী কাজের দিকে মনোযোগ দেন। বয়সকে বাধা না মেনে শারীরিক ফিটনেসেও নিজেকে প্রস্তুত করেন নতুন অধ্যায়ের জন্য।
বর্তমান অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এই অভিনেতা জানান, এখন তিনি প্রতিটি চলচ্চিত্রে ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পান এবং কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট আছেন।
এর আগেও নিজের ব্যর্থতা ও পুনরুত্থানের গল্প নিয়ে কথা বলেছেন অনুপম খের। তাঁর মতে, জীবনে বারবার নতুন করে শুরু করার সাহসই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।