- ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, প্রায় ৩৪ বছর পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। তার দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এই আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং পরিস্থিতিতে “অস্থায়ী স্বস্তি” আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনায় কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
এই ঘোষণার একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে মূলত চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা কমানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের একজন সদস্য জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
অন্যদিকে লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো নির্ধারিত আলোচনার বিষয়ে তাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে লেবাননে হামলা ও পাল্টা হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হলেও বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে দুই পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থান ও সামরিক পরিস্থিতির ওপর।
এদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অনেকে একে “বিতর্কিত ও অনিশ্চিত” পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।