- ২৩ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সময়ের সঙ্গে বদলেছে খেলার নিয়ম ও প্রযুক্তির ব্যবহার। ১৯৭০ সালে প্রথম চালু হয়েছিল হলুদ ও লাল কার্ড। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে যুক্ত হয় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময় বাড়িয়ে ম্যাচকে আরও নাটকীয় করা হয়। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও আসছে একাধিক নতুন নিয়ম, যা ফুটবলের পরিচিত চিত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
আগে প্রচণ্ড গরমে খেলোয়াড়দের পানি পানের জন্য বিরতি দেওয়া হলেও এবার প্রতিটি ম্যাচেই বাধ্যতামূলকভাবে হাইড্রেশন বিরতি রাখা হবে। আবহাওয়া বা তাপমাত্রা যেমনই হোক, প্রতি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে তিন মিনিটের বিরতি দেবেন রেফারি।
ফিফা জানিয়েছে, সব দলের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি ঠান্ডা আবহাওয়া বা বন্ধ ছাদের স্টেডিয়ামেও এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
তবে সমালোচকদের দাবি, এতে ম্যাচের গতি কমে যেতে পারে এবং এটি সম্প্রচারকদের অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ তৈরি করবে।
এবার ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির দায়িত্বও বাড়ানো হয়েছে। আগে গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার মতো বড় সিদ্ধান্তে ভিএআর ব্যবহার করা হতো।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও কর্নারের সিদ্ধান্তও এখন ভিএআরের আওতায় আসবে। কোনো কর্নার ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে সেটিও পর্যালোচনা করা যাবে। তবে রিভিউ দ্রুত শেষ করতে হবে, যাতে খেলার গতি ব্যাহত না হয়।
সময় নষ্ট ঠেকাতে এবার আরও কঠোর হচ্ছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। গোলকিক, থ্রো-ইন ও খেলোয়াড় বদলির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কাউন্টডাউন চালু করা হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোলকিক বা থ্রো-ইন না নিলে বল প্রতিপক্ষের দখলে চলে যাবে। একইভাবে বদলির সময় বোর্ডে নম্বর দেখানোর পর ১০ সেকেন্ডের মধ্যে খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হবে। দেরি হলে বদলি খেলোয়াড় পরবর্তী স্টপেজের আগে মাঠে নামতে পারবেন না।
এ ছাড়া চোটের কারণে মাঠ ছাড়লে ওই খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আরেকটি নতুন নিয়ম হতে যাচ্ছে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় কেউ মুখ ঢেকে রাখলে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখাতে পারবেন।
সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ফুটবলে এমন একটি বিতর্কিত ঘটনার পর ফিফা এই সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে ম্যাচের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কোনো খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে চলে গেলে তাকেও লাল কার্ড দেখানো হতে পারে।
ফিফা আরও জানিয়েছে, কোনো কোচ বা দলীয় কর্মকর্তা যদি খেলোয়াড়দের মাঠ ত্যাগে উসকানি দেন, তাহলেও শাস্তির আওতায় পড়বেন। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দলকে পরাজিত ঘোষণা করা হতে পারে।
নতুন এসব নিয়মের মাধ্যমে খেলার গতি, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। তবে নিয়মগুলো মাঠে কতটা কার্যকর হয় এবং দর্শকরা কীভাবে গ্রহণ করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।