- ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশের সংবিধানে একাধিক মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামোতে ভারসাম্য আনা, জবাবদিহি জোরদার করা এবং দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়গুলো সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গণভোটে ইতিবাচক ফল এলে আগামী জাতীয় সংসদ একই সঙ্গে নিয়মিত আইনসভা এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই এই পরিষদের সদস্য হবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করবেন।
প্রস্তাবিত সংস্কার অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে সীমিত হবে। বিশেষ করে সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সরকার, বিরোধী দল এবং কোথাও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের বিধান আনার কথা রয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশন, পিএসসি, দুদক, ন্যায়পালসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে নিয়োগ দিতে পারবেন—এমন বিধান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
সংস্কার প্রস্তাবের অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ গঠিত হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। এর ফলে একটি দলের একক প্রভাব কমে আসবে এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উভয় কক্ষের সমর্থন প্রয়োজন হবে। এতে ভবিষ্যতে কোনো একক দল ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এ ছাড়া সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য বিষয়ে তাঁরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মত দিতে পারবেন।
সংবিধান–সংক্রান্ত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে হবে গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এলে তৃতীয় ধাপে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শেষ করবে।
যদি গণভোটে ‘না’ ভোট জয়ী হয়, তবে এসব সংবিধান–সংক্রান্ত সংস্কার বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপরই পরিবর্তনের বিষয়টি নির্ভর করবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্টজনদের মতে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। এতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ কমবে, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির ক্ষেত্র বিস্তৃত হবে।
সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ভোট নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা কোন পথে এগোবে—সে বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।