Wednesday, February 25, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা ‘হাতের নাগালে’: জেনেভা বৈঠকের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী


ছবিঃ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (সংগৃহীত । আল জাজিরা । ভ্যালেন্টিন ফ্লাউরড/এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে একটি সমঝোতা চুক্তি “হাতের নাগালে” রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে নির্ধারিত নতুন দফা আলোচনার আগে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাঘচি বলেন, কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে একটি “অভূতপূর্ব চুক্তি” সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে দেশটি সরে আসবে না।

বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় এটি হবে চলমান সংলাপের তৃতীয় দফা। ওমান আশা প্রকাশ করেছে, উভয় পক্ষ চূড়ান্ত সমঝোতার পথে এগোতে ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কড়া অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তেহরান পুনরায় কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আরাঘচি।

আলোচনার এই পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ন্যাটো ঘাঁটিতে নোঙর করার পর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক মহড়া জোরদার করেছে এবং অঞ্চলটিকে “শক্ত দুর্গ” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, দেশটির জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের আশাবাদ রয়েছে। গত ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও অসন্তোষের সুর শোনা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে, তাদের নীতির ফলে ইরানে ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা অর্থনীতিতে চাপ বাড়িয়েছে। এর প্রভাব ব্যাংক খাতেও পড়েছে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে, জেনেভার বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন