Wednesday, April 15, 2026

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলার ক্ষতিপূরণ দাবি করল ইরান, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাক্সের প্রস্তাব


ছবিঃ ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইরানের রাজধানী তেহরানের তাজরিশ স্কয়ারে ‘আইজ অব মিনাব’ নামের একটি প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে মিনাব হামলায় নিহত শিশুদের চোখের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তাদের ছবি প্রদর্শন করা হয়। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । ফাতেমেহ বাহরামি/আনাদোলু)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশকে দায়ী করে তাদের কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণ চেয়েছে তেহরান। দেশটির অভিযোগ, এসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করেই ইরানে হামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত এ অবস্থান তুলে ধরেন বলে জানায় দেশটির সরকারি সূত্র।

ইরান জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণের একটি সম্ভাব্য উপায় হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বিশেষ কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে।

সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এই হিসাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চলছে।

ইরানের দাবি, হামলার ফলে দেশটির তেল ও গ্যাস অবকাঠামো, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সামরিক স্থাপনারও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, ব্রিজ, বন্দর, রেললাইন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি পরিশোধনাগারসহ বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির শিকার হয়েছে। অনেক হাসপাতাল, স্কুল এবং সাধারণ আবাসিক ভবনও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে দেশটির বিমান পরিবহন খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে বলে জানানো হয়েছে। ইরান এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০টি বেসামরিক বিমান অচল হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে ২০টি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান সংস্থাগুলো বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

এত বড় ক্ষতির পরও ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বড় ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও কৌশলগত স্বার্থের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন