Tuesday, January 13, 2026

ভারত, ফ্রান্স ও মালয়েশিয়ার গ্রোকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ


প্রতীকী ছবিঃ গ্রোক (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীদের ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনভাবে উপস্থাপিত ভুয়া ছবি তৈরির অভিযোগে এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান xAI–এর চ্যাটবট গ্রোককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারত, ফ্রান্স ও মালয়েশিয়া—এই তিন দেশই সম্প্রতি গ্রোকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত ও নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ শুরু করেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গ্রোকের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে বলা হয়—২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ব্যবহারকারীর অনুরোধে দুই কিশোরীর যৌনভাবে উপস্থাপিত এআই ছবি তৈরি ও শেয়ার করা হয়েছিল, যা গুরুতর নৈতিক ব্যর্থতা। বিবৃতিতে এমন কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হলেও, কে এই দায় নিচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজে দায় স্বীকার করতে পারে না, ফলে এই ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ বাস্তব অর্থে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে না।

গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গ্রোক শুধু সম্মতি ছাড়া পর্নোগ্রাফিক ছবি তৈরিই নয়, বরং নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের দৃশ্যও তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছে। এ নিয়ে মানবাধিকার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে এলন মাস্ক এক পোস্টে বলেছেন, গ্রোক ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকেই বহন করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি পর্যায়ে সবচেয়ে কড়া পদক্ষেপ এসেছে ভারতের পক্ষ থেকে। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক্স কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, গ্রোক যেন কোনোভাবেই অশ্লীল, যৌন উত্তেজক, শিশুপর্নোগ্রাফি বা আইনে নিষিদ্ধ কনটেন্ট তৈরি করতে না পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে এক্সের আইনি সুরক্ষা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ফ্রান্সেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলি কার্যালয় জানিয়েছে, এক্স প্ল্যাটফর্মে যৌনভাবে উপস্থাপিত গভীর নকল ছবির বিস্তার নিয়ে তদন্ত শুরু হচ্ছে। দেশটির ডিজিটাল বিষয়ক দপ্তর জানায়, কয়েকজন মন্ত্রী ইতোমধ্যে স্পষ্টতই অবৈধ কনটেন্টের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন এবং দ্রুত তা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, এক্সে এআই টুলের অপব্যবহার নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছবি বিকৃত করে অশালীন ও ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির অভিযোগকে তারা গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও স্পষ্ট দায়বদ্ধতার কাঠামো না থাকলে সামাজিক ও নৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন