Wednesday, February 18, 2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নতুন মুখের আধিক্য, ৭৬ শতাংশ সদস্যই প্রথমবার


প্রতীকী ছবিঃ নির্বাচন (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বড় ধরনের প্রজন্মগত পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০০ আসনের মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। অর্থাৎ মোট সদস্যের প্রায় ৭৬ শতাংশই নতুন মুখ।

গত বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট হয়নি। এ ছাড়া দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশে আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। ওই দুই আসনেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১১টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের জোটসঙ্গী হিসেবে গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-র তিনজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আসন দাঁড়িয়েছে ২১৪টি। এর মধ্যে ১৫০ জন প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন, যা জোটের মোট নির্বাচিত সদস্যের প্রায় ৭০ শতাংশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে এবং এই ছয়জনই প্রথমবারের প্রার্থী হয়েই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস থেকে আরও তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে জামায়াত-সমর্থিত জোটের আসন ৭৭টি, যার অন্তত ৭২ জনই নতুন সংসদ সদস্য—প্রায় ৯৫ শতাংশ।

ত্রয়োদশ সংসদে আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতার প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭—দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন। গণ অধিকার পরিষদ-এর সভাপতি নুরুল হক পটুয়াখালী-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে জয় পেয়েছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান এবং গণসংহতি আন্দোলন-এর প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি অতীতে নির্বাচন করলেও এবারই প্রথম সংসদে প্রবেশ করছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন; তাঁদের মধ্যে সাতজন জয়ী হয়েছেন এবং পাঁচজন প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর আল মাসুদ হাসানউজ্জামান মনে করেন, ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ছিল স্পষ্ট। রাজনৈতিক দলগুলোও সে অনুযায়ী নতুন মুখকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এবারের নির্বাচনটি মূলত পরিবর্তনের নির্বাচন।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি, স্থায়ী কমিটির কাজ ও আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া জটিল। নতুন সদস্যদের জন্য অভিজ্ঞতার ঘাটতি একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাঁর মতে, নতুনদের উদ্যম এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ—এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কার্যকর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন