- ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা থাকলে তা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কিন্তু সমস্যার সমাধান না করে বিরোধী দলকে দায়ী করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সীমাহীন ব্যর্থতার দায় আপনাদেরই নিতে হবে। নিজেদের ব্যর্থতা বিরোধী দলের ওপর চাপাবেন না।’
সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো সংসদ সদস্যের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়ে যায় না। জনসমর্থন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা হিসেবে পদত্যাগকে সামনে আনা হলেও অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
তার বক্তব্য, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার হওয়া প্রয়োজন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশে বৈষম্যহীনতা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূর্ণতা পায়নি।
তিনি বলেন, তরুণেরা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন দিয়েছেন, তার বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু দেশে বৈষম্য কমার পরিবর্তে বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করে মানুষের জীবনে তার ইতিবাচক প্রভাব কতটা পড়ছে, তার ওপর। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তব্যে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ এবং দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ আসা কিংবা অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ তোলা হলে তা প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
তার মতে, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের ঘটনা ঘটলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শফিকুর রহমানের বক্তব্য, সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন করা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা থাকলে তার জবাবদিহিও সরকারকেই করতে হবে।
সভায় তিনি সরকারের প্রতি ব্যর্থতা আড়াল না করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।