- ০১ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল এখন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা, এশিয়ান কাপ ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘ ফুটবল ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে আজকের প্রতিপক্ষকে কঠিন পরীক্ষাই মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। তবে অতীতের পরিসংখ্যান কিংবা বর্তমান শক্তির ব্যবধানকে পাশে সরিয়ে নতুন লড়াইয়ের প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামতে প্রস্তুত জামাল ভূঁইয়ার দল।
ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে আজ ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। জাকার্তার স্বাগতিক মাঠে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়ার কথা ম্যাচটি। নিজেদের মাঠে ইন্দোনেশিয়া নামবে সমর্থকদের বাড়তি প্রেরণা নিয়ে। অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের।
ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দেশটির রয়েছে অলিম্পিক ফুটবলে ব্রোঞ্জ পদক। এশিয়ান কাপেও পাঁচবার অংশ নিয়েছে তারা। বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রয়েছে একাধিক সাফল্য। ফলে ফুটবল ঐতিহ্যের বিচারে দুই দেশের মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালি সময়ে দুই দেশের খেলোয়াড়দের নিয়মিত দেখা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মারদেকা কাপেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল নিয়মিত। সেই সময় থেকেই দুই দেশের ফুটবলের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানেও শক্তির বিচারে ইন্দোনেশিয়া এগিয়ে। দেশটির জাতীয় দলে ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা ফুটবলার রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত কয়েকজন খেলোয়াড়ও জাতীয় দলের অংশ হয়েছেন। নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধাটিও আজ স্বাগতিকদের বাড়তি শক্তি দেবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়টা মোটেও স্বস্তির নয়। টুর্নামেন্টে এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, দুটিতেই এসেছে হার। মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় দলটি।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১১টি কর্নার পেয়েও গোল আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ। আক্রমণে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে না পারার বিষয়টি দলের দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে। কোচ থমাস ডুলির কৌশল নিয়েও আগের দুই ম্যাচের পর আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
তবে আগের ম্যাচের হতাশা নিয়ে পড়ে থাকতে চান না বাংলাদেশের ফুটবলাররা। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে দলের অনুশীলনে ছিল নতুন উদ্যম। কোচিং স্টাফ প্রতিপক্ষের আগের ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করে তাদের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে।
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়াকে নিয়ে আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, ম্যাচে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
জাকার্তায় বাংলাদেশের আগের দুই ম্যাচে গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতি ছিল কম। কিন্তু স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ার অপেক্ষায়। ম্যাচ শুরুর আগেই স্টেডিয়াম দর্শকে পূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই পরিবেশে বাংলাদেশের জন্য মানসিক দৃঢ়তাও বড় ভূমিকা রাখবে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসেও রয়েছে বাংলাদেশের একটি স্মরণীয় জয়। সাতবারের সাক্ষাতে বাংলাদেশ একবার ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়েছে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ২-১ গোলে ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২২ সালে দুই দল মুখোমুখি হলে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।
পুরোনো সেই জয় আজকের ম্যাচে সরাসরি কোনো সুবিধা দেবে না। তবে ইতিহাস কখনো কখনো আত্মবিশ্বাসের উৎস হয়ে ওঠে। শক্তির ব্যবধানের হিসাব ভুলে তাই নতুন একটি অধ্যায়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য একটাই ইন্দোনেশিয়ার মাঠ থেকে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে ফেরার চেষ্টা।