- ১৫ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এলাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানার ফেব্রিক্স গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনে গোডাউনের বিপুল পরিমাণ কাপড় ও অন্যান্য কাঁচামাল পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর প্রায় ৪টার দিকে অনন্ত অ্যাপারেলস লিমিটেডের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুরো শিল্পাঞ্চলে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে প্রথমে আদমজী ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আশপাশের চারটি ফায়ার স্টেশন থেকে আরও আটটি ইউনিট পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে ৯টি ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ সময় লড়াই করে সকাল প্রায় ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে গোডাউন থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গোডাউনে প্রচুর পরিমাণ ফেব্রিক্স এবং দাহ্য উপকরণ থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় আশপাশের কারখানাগুলোতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্ভাব্য পুনরায় দাহ্য পরিস্থিতি এড়াতে ফায়ার সার্ভিস ডাম্পিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গোডাউনের ভেতরে কোথাও আগুনের লুকানো উৎস বা অতিরিক্ত তাপ রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আদমজী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মিরন মিয়া জানান, কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে ডাম্পিং কার্যক্রম চলছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে গোডাউনে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাপড়, কাঁচামাল ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ণয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই আগুনের উৎস ও আর্থিক ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।