Wednesday, February 4, 2026

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর মৃত্যুর পর বিদেশি প্রভাবের অভিযোগঃ ইরানের প্রেসিডেন্ট


ফাইল ছবিঃ পেজেশকিয়ান বলেন, শত্রুতাপূর্ণ শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে সম্প্রতি দেশব্যাপী বিক্ষোভ ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছিল (সংগৃহীত । আল জাজিরা । অ্যাঞ্জেলিনা কাটসানিস/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সম্প্রতি দেশে যে বিক্ষোভগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউরোপীয় দেশগুলো “উস্কানি” ছড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিদেশি শক্তিরা নিরীহ মানুষদেরকে প্ররোচিত করে সড়কে নিয়ে গেছে, যাতে দেশটি বিভাজিত হয় এবং মানুষদের মধ্যে বিদ্বেষ ও সংঘাত তৈরি হয়।

পেজেশকিয়ান গতকাল শনিবার টেলিভিশনে এক ভাষণে বলেন, “সাধারণ বিক্ষোভে কেউ অস্ত্র তোলেনা, সেনা সদস্যদের হত্যা করেনা, অ্যাম্বুলেন্স বা বাজারে আগুন দেনা। আমাদের উচিত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বসে তাদের কথা শোনা এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা। আমরা সেই জন্য প্রস্তুত।” তিনি আরও দাবি করেন, এই বিক্ষোভ শুধুমাত্র সামাজিক আন্দোলন ছিল না; বিদেশি শক্তিরা ইরানের সমস্যাকে ব্যবহার করে দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে।

ইরানি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে তাদের মতে নিহতের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা উসকানিমূলক হিংসায় আক্রান্ত সাধারণ নাগরিক। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে যে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে, যা কয়েক হাজারের বেশি হতে পারে।

ইরান-পুলিশের ক্রমবর্ধমান হিংসার কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান করছে এবং ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজনে তারা ইরানকে লক্ষ্য করতে প্রস্তুত।

অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত ও সমান সুযোগভিত্তিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে আলোচনার সময় হুমকির ছায়া থাকা চলবে না। ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কোনো আলোচনার বিষয় হবে না।”

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ট্রেজারি বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি ইরানের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তত্ত্বাবধানে হাজারো শান্তিপ্রিয় বিক্ষোভকারীর মৃত্যু ঘটাতে জড়িত। এছাড়াও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী প্রহরী বাহিনীর কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিনিয়োগকারী বাবাক মর্তেজা জানজানি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন