- ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতারণা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে Federal Trade Commission (এফটিসি)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এসব প্রতারণার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণাজনিত ক্ষতির পরিমাণ আটগুণ বেড়েছে। মোট প্রতারণার ঘটনার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রতারণার সূত্রপাত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই।
প্ল্যাটফর্মভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, Facebook-এ শুরু হওয়া প্রতারণার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে WhatsApp ও Instagram। শুধু ফেসবুকেই হওয়া প্রতারণার আর্থিক ক্ষতি টেক্সট বা ইমেইলভিত্তিক প্রতারণার তুলনায় অনেক বেশি।
এফটিসির তথ্য বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ ধরন হচ্ছে ভুয়া অনলাইন কেনাকাটা। প্রায় ৪০ শতাংশ ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তারা বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য অর্ডার করেছিলেন, কিন্তু পরে প্রতারণার শিকার হন। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় অপরিচিত বা নকল ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়, যেখানে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামে আকর্ষণীয় ছাড়ের প্রলোভন দেখানো হয়।
এছাড়া বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতারণাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতারকরা সামাজিক মাধ্যমে বিনিয়োগ শেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে বা ভুয়া পরামর্শদাতা সেজে মানুষকে ফাঁদে ফেলে। কখনো আবার ভুয়া গ্রুপ তৈরি করে মিথ্যা সাফল্যের গল্প দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করা হয়। এ ধরনের প্রতারণায় ২০২৫ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
রোমান্স স্ক্যাম বা সম্পর্কভিত্তিক প্রতারণার ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখছে। প্রায় ৬০ শতাংশ ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে প্রতারকদের পরিচয় হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করে প্রতারণা করা হয়।
এফটিসি ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্য সীমিত রাখা, অপরিচিত কারও বিনিয়োগ পরামর্শ না নেওয়া এবং কোনো পণ্য কেনার আগে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।