Monday, January 19, 2026

রেনাতে রেইন্সভে: হারিয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্ত থেকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের শীর্ষে


ছবিঃ রেনাতে রেইন্সভে (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

একসময় অভিনয় জীবন ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন নরওয়ের অভিনেত্রী রেনাতে রেইন্সভে। অথচ সেই রেনাতেই এখন আন্তর্জাতিক সিনেমার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, অস্কার দৌড়েও যার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। সর্বশেষ ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

২০২১ সালের জুলাই মাসে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। সেবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় ইয়াকিম ত্রিয়ের পরিচালিত ‘দ্য ওয়ার্স্ট পারসন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’। ছবিটির প্রধান চরিত্রে প্রথমবার অভিনয় করেই নিজের কাজ নিয়ে প্রবল দ্বিধায় ভুগছিলেন রেনাতে। এক সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে নিজের অভিনয় নিয়ে অতিরিক্ত প্রশংসা পড়ে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন। পরে নিজেই স্বীকার করেন, এত বড় প্রশংসা তখন তাঁর পক্ষে হজম করা কঠিন ছিল।

তবে সেই ছবিই তাঁকে এনে দেয় কানে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। পাশাপাশি বাফটাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়নও পান তিনি। ছবিটি নিজেও অস্কারে জায়গা করে নেয়। এসব স্বীকৃতি তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিলেও রেনাতে বরাবরই চেষ্টা করেছেন প্রশংসা ও সমালোচনার মাঝখানে ভারসাম্য ধরে রাখতে।

খ্যাতির প্রচলিত ঝলক থেকে নিজেকে দূরে রাখাই তাঁর স্বভাব। ‘দ্য ওয়ার্স্ট পারসন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর সাফল্যের পর হলিউডের দরজাও খুলে যায় তাঁর জন্য। সেবাস্তিয়ান স্ট্যানের বিপরীতে অভিনয় করেন ‘আ ডিফারেন্ট ম্যান’ ছবিতে।

চলতি বছর কান উৎসবে আবারও ইয়াকিম ত্রিয়ের সঙ্গে ফিরে আসেন ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ নিয়ে। পরিবার, শিল্প আর সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘিরে নির্মিত ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন নোরা নামের এক বিষণ্ন অভিনেত্রীর চরিত্রে। ছবিটি কানে গ্রাঁ প্রি জিতে নেয় এবং দর্শকদের কাছ থেকে পায় দীর্ঘ স্ট্যান্ডিং ওভেশন। বর্তমানে ছবিটি অস্কার ও গোল্ডেন গ্লোবের আলোচনায় রয়েছে।

রেনাতের শৈশব কেটেছে নরওয়ের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে। নিজেকে বরাবরই খানিকটা আলাদা মনে হতো তাঁর। কৈশোরে নানা ব্যর্থতা আর প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েছেন। নাট্যশিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন মঞ্চে কাজ করলেও সিনেমায় তেমন সুযোগ পাচ্ছিলেন না। হতাশ হয়ে অভিনয় ছাড়ার কথাও ভেবেছিলেন, এমনকি কাঠমিস্ত্রি হওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন।

ঠিক সেই সময়েই নির্মাতা ইয়াকিম ত্রিয়ের ফোন বদলে দেয় তাঁর জীবন। ‘অসলো, অগাস্ট ৩১’ ছবিতে ছোট একটি উপস্থিতিতেই ত্রিয়ের তাঁর সম্ভাবনা বুঝে ফেলেছিলেন। এরপর ‘জুলি’ চরিত্রের প্রস্তাব আসে, যা রেনাতেকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে স্থায়ী জায়গা করে দেয়।

একসময় যে অভিনেত্রী নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন, আজ তিনিই আন্তর্জাতিক আলোচনায়। নিজের অবস্থান নিয়ে রেনাতে বলেন, এই বদলে যাওয়ার অনুভূতি এখনো পুরোপুরি বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন