Monday, January 19, 2026

রেড বুল রেসিংয়ের নতুন সিইও লরাঁ মেকিয়েস: প্রকৌশলী মনোভাব ও দলভিত্তিক নেতৃত্বের গল্প


ছবিঃ ওরাকল রেড বুল রেসিং (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্টার | PNN: 

ফর্মুলা ওয়ান দুনিয়ায় রেড বুল রেসিংয়ের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন লরাঁ মেকিয়েস। চার মাস আগে শুধুমাত্র রেসিং বুলসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মেকিয়েস। জুলাই মাসে হঠাৎ করেই প্রাক্তন সিইও ক্রিস্টিয়ান হর্নারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি রেড বুল রেসিংয়ের সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন।

মেকিয়েসের যাত্রা অন্যদের তুলনায় কিছুটা অনন্য। ফর্মুলা ওয়ান টিম প্রিন্সিপাল হিসেবে হর্নার যেখানে মিডিয়া এবং পপুলারিটি খেলায় উৎসাহী, সেখানে মেকিয়েস দীর্ঘ সময় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ভিত্তিক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার লক্ষ্য শুধু গাড়ির এ্যারোডাইনামিক্স বা টায়ার পারফরম্যান্স নয়, বরং কাজের প্রবাহ এবং প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমানোও।

রেড বুল রেসিংয়ের পারফরম্যান্স বৃদ্ধির জন্য তিনি প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বকেও গুরুত্ব দেন। উদাহরণস্বরূপ, সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ১পাসওয়ার্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্ব। মেকিয়েস বলেন, “আমাদের কর্মীরা বিভিন্ন জটিল সিস্টেমে লগইন ও লগআউট করতে হয়  ট্র্যাক, ফ্যাক্টরি, সিমুলেটর, উইন্ড টানেল। ১পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আমরা সময় বাঁচাচ্ছি এবং মূল ব্যবসার ওপর বেশি মনোযোগ দিতে পারছি।”

৪৮ বছর বয়সী মেকিয়েস ফর্মুলা ওয়ানকে প্রায় সব কোণে দেখেছেন। প্যারিসের এসটাকা এবং লাফবোরো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল শিক্ষা নিয়ে ২০০০ সালে ফর্মুলা থ্রি দিয়ে শুরু, ২০০১ সালে ব্রিটিশ আরোউস টিমে যোগদান, ২০০৩ সালে ইতালির মিনার্ডিতে রেস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা  এই সব মিশিয়ে তার প্রযুক্তি ও কৌশলগত দক্ষতা তৈরি হয়েছে।

মেকিয়েস নিজেকে বড় কোনও স্বার্থে আবদ্ধ না রেখে দলের জন্য কাজ করেন। সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের ইতালিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সে ম্যাক্স ভেরস্টাপ্পেনের জয়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমার কোনো অবদান নেই। এটা পুরোপুরি দলের অর্জন।”

তাঁর নেতৃত্বের মূল ফোকাস ব্যক্তিগত নয়, দলভিত্তিক। মেকিয়েস বলেন, “প্রথমে ভাবনা থাকে ফ্যাক্টরির দুই হাজার কর্মীর জন্য, যারা এই মরসুমে কখনো হাল ছাড়েনি। দলের মনোবল এবং যুদ্ধে থাকার মনোভাব বজায় রাখতে প্রচুর শক্তি ও সাংস্কৃতিক সমর্থন লাগে।”

২০২৫ সালের গাড়ির উন্নয়নকে মাঝপথে ছাড়ার পরিবর্তে চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও এক ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সফল পদক্ষেপ ছিল। নতুন নিয়মাবলী আসছে ২০২৬ সালে, যেখানে চ্যাসি ও পাওয়ার ইউনিটে পরিবর্তন। মেকিয়েস এবং রেড বুল তাদের প্রথম নিজস্ব পাওয়ার ইউনিট তৈরি করছেন ফোর্ডের সহযোগিতায়।

মেকিয়েস বলেন, “আমরা এমন এক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি যা আগে কেউ করেনি। শূন্য থেকে মিল্টন কিংসে [যুক্তরাজ্য] কারখানা, ডাইনোস, ৬০০ জন কর্মী  সব কিছু তৈরি করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত ট্র্যাকে চালু করতে হবে।”

সতর্ক পরিকল্পনা, দলভিত্তিক নেতৃত্ব এবং প্রযুক্তিতে মনোযোগের মাধ্যমে মেকিয়েস আশা করছেন রেড বুল ২০২৬ সালের নতুন চ্যালেঞ্জে সফল হবে। তিনটি শেষ রেস নিয়ে তিনি দলের মনোভাব ঠিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। মেকিয়েস বলেন, “আমরা সবসময় রেস বাই রেস এগুতে চাই। সংখ্যার দিকে তাকাই না, শুধু রেসের দিকে মনোনিবেশ করি।”

রেড বুলের নতুন অধ্যায় মেকিয়েসের নেতৃত্বে প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং দলের শক্তিকে একত্রিত করে ফর্মুলা ওয়ান প্রেমীদের জন্য নতুন উদ্দীপনা এবং আগ্রহ তৈরি করছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন