- ১৬ মে, ২০২৬
প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত জটিলতার কারণে ক্রিকেট কানাডার জন্য নির্ধারিত অর্থায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। ছয় মাসের জন্য কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডা ক্রিকেট বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
সহযোগী সদস্য দেশ হিসেবে ক্রিকেট কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশটির ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান ক্রিকেট কার্যক্রম বা উচ্চ পারফরম্যান্স কর্মসূচি আপাতত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তবে বোর্ডটির সামগ্রিক পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৪ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ক্রিকেট কানাডার মোট আয়ের বড় অংশই এসেছে আইসিসির অনুদান থেকে। বোর্ডটির আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আন্তর্জাতিক সংস্থাটির অর্থায়নের ওপর নির্ভর করায় বর্তমান সিদ্ধান্তকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি, তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ক্রিকেট কানাডার প্রশাসনিক দুর্বলতা, আর্থিক তদারকির ঘাটতি এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এসেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে নানা বিতর্কও সামনে আসে।
সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ ঘিরেও তদন্ত চালাচ্ছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট। একই সঙ্গে কানাডার সাবেক কোচ খুররম চৌহান–কে ঘিরে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপ নিয়েও তদন্ত চলছে। ওই অডিওতে জাতীয় দলে খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে বোর্ডের কিছু সদস্যের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠে আসে।
এদিকে ক্রিকেট কানাডার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান খান–এর নিয়োগ ও পরবর্তী সময়ে অপসারণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আগের কিছু ফৌজদারি অভিযোগ গোপন রাখার বিষয়টি আইসিসির নজরে আসে বলে জানা যায়। পরে কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে চুরি ও জালিয়াতির অভিযোগ আনে, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি বোর্ডের নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। অরভিন্দর খোসা অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে কানাডিয়ান ক্রিকেট ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।