Tuesday, June 16, 2026

পরীক্ষার অনিয়ম ও তরুণদের প্রতিবাদে ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলন


ছবিঃ ভারতের হায়দ্রাবাদে ১৪ই জুন, ২০২৬ তারিখে একটি বিক্ষোভ চলাকালে তেলাপোকা জনতা পার্টির সমর্থকরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /মহেশ কুমার এ/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ভারতে জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (NEET) ঘিরে অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সৃষ্ট সংকটকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে গড়ে ওঠা ব্যঙ্গাত্মক কিন্তু ব্যাপক আলোচিত আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই আন্দোলনের সূচনা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যেখানে মূলত তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, বেকারত্ব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করে। পরে এটি ধীরে ধীরে রাস্তায় নেমে আসা বিক্ষোভে রূপ নেয়।

ভারতের গড়চিরৌলি এলাকার ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী মে মাসে NEET পরীক্ষায় অংশ নেন। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর পরীক্ষা শেষ হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করলেও, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিল করে দেয়।

এ সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে দুই মিলিয়নেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। নতুন করে পরীক্ষা পুনঃনির্ধারণ করা হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

এই পরিস্থিতিই তরুণদের অনেকে সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে নতুন ধরনের প্রতিবাদ আন্দোলনের জন্ম দেয়।

আন্দোলনের নামকরণ আসে এক বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে, যেখানে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য তরুণদের “ককরোচের মতো” বলে উল্লেখ করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ভারতীয় তরুণ সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন তোলেন “যদি সব ককরোচ একসঙ্গে হয় তাহলে কী হবে?”

এই ব্যঙ্গ থেকেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, যা পরে একটি অনানুষ্ঠানিক ছাত্র-যুব আন্দোলনে রূপ নেয়। সংগঠনটি পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে।

নতুন এই আন্দোলন দিল্লি, পুনে, জয়পুর, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরে সমাবেশ আয়োজন করে। কয়েকটি সমাবেশে কয়েক হাজার তরুণ অংশ নেয়।

দিল্লির এক সমাবেশে আন্দোলনের নেতা পদত্যাগের দাবি জানিয়ে সময়সীমা বেঁধে দেন। কিছু জায়গায় উত্তেজনাও সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলনের নেতা হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও তরুণদের হতাশার প্রকাশ।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র কার্যক্রম মূলত সামাজিক মাধ্যমকেন্দ্রিক। সংগঠনটির অনলাইন উপস্থিতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক মিলিয়ন অনুসারীতে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়। আন্দোলনের ভিডিও ও পোস্টগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারীদের মতে, মূলধারার গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত কাভারেজ না পেলেও সামাজিক মাধ্যম তাদের মূল শক্তি হয়ে উঠেছে।

আন্দোলনটি একটি ‘পরীক্ষা ইশতেহার’ ঘোষণা করেছে, যেখানে পরীক্ষায় অনিয়ম হলে ক্ষতিপূরণ, স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বাধীন অডিটের দাবি জানানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এসব দাবি নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন কেবল একটি পরীক্ষাকেন্দ্রিক ক্ষোভ নয়; বরং এটি ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশার প্রতিফলন।

তবে আন্দোলনটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নির্ভর করবে এর সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন