- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘গ্রোক’ নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত সরকার। অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সকে (সাবেক টুইটার) দ্রুত কারিগরি ও নীতিগত পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, গ্রোক যেন কোনোভাবেই নগ্নতা, যৌন উদ্দীপক, বিকৃত বা আইনবিরোধী কনটেন্ট তৈরি বা ছড়িয়ে না দেয়—সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এক্সকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, যেখানে উল্লেখ থাকবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কনটেন্ট ঠেকাতে কী সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
ভারতের আইটি মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্দেশনা মানা না হলে এক্সের ‘সেইফ হারবার’ সুবিধা বাতিল হতে পারে। এই সুবিধার আওতায় কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্টের জন্য সরাসরি দায়মুক্তি পেয়ে থাকে। তা হারালে এক্সকে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একাধিক উদাহরণ সামনে আসে, যেখানে গ্রোক ব্যবহার করে নারীদের ছবিতে কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন এনে তাদের বিকিনি পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় পার্লামেন্ট সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান। এ ছাড়া আলাদা ঘটনায় গ্রোকের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনায়িত ছবি তৈরি হওয়ার অভিযোগও উঠে, যা পরে এক্স কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নেয় এবং সেসব কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ছবিতে কৃত্রিম পরিবর্তন এনে তৈরি করা কিছু বিতর্কিত ছবি এখনও প্ল্যাটফর্মে রয়ে গেছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারত সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর জন্য একটি সাধারণ সতর্কবার্তা জারি করেছিল। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়, দেশীয় আইন অনুযায়ী অশ্লীল ও যৌন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজিটাল বাজার হিসেবে ভারত এখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে এআই-নির্ভর কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সরকার কতটা কঠোর হয়, তার প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিসরেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ইলন মাস্কের এক্স ইতোমধ্যে ভারতের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কিছু বিধি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। তাদের দাবি, সরকারি নির্দেশে কনটেন্ট সরানোর ক্ষমতা অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের ঝুঁকি তৈরি করে। তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মটি ভারতের ব্লকিং নির্দেশনা মেনে চলছে।
এদিকে সংবাদ বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিক তথ্য যাচাইয়ের কাজে গ্রোকের ব্যবহার বাড়ায় এর আউটপুট এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।