- ১৯ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
নতুন ওষুধ আবিষ্কার বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ গবেষণাগুলোর একটি। একটি কার্যকর অণু বা মলিকিউল খুঁজে পেতে প্রায় এক দশক সময় এবং বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হয়। এরপরও অধিকাংশ গবেষণা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। এই জটিলতা কমাতে বহু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো মূলত দক্ষ গবেষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এবার সেই চিত্র বদলাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে স্যান্ডবক্সএকিউ। প্রতিষ্ঠানটি অ্যানথ্রপিক–এর এআই প্ল্যাটফর্ম ক্লডের সঙ্গে নিজেদের বৈজ্ঞানিক এআই মডেল যুক্ত করেছে। ফলে জটিল গবেষণা ও ওষুধ উন্নয়ন প্রযুক্তি এখন সহজ কথোপকথনের মাধ্যমেই ব্যবহার করা যাবে।
প্রায় পাঁচ বছর আগে অ্যালফাবেট–এর একটি স্পিনঅফ হিসেবে যাত্রা শুরু করে স্যান্ডবক্সএকিউ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সাবেক গুগল প্রধান এরিক শ্মিট। ইতোমধ্যে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৯৫ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে।
স্যান্ডবক্সএকিউর সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তিগুলোর একটি হলো “লার্জ কোয়ান্টিটেটিভ মডেল” বা এলকিউএম। প্রচলিত ভাষাভিত্তিক এআইয়ের মতো শুধু তথ্যের ধরণ বিশ্লেষণ নয়, বরং এই মডেলগুলো বাস্তব পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের সূত্রের ভিত্তিতে কাজ করে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রি বিশ্লেষণ, মলিকিউলার ডাইনামিকস এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার সূক্ষ্ম আচরণ আগেভাগেই সিমুলেশন করা সম্ভব হয়। ফলে গবেষকেরা পরীক্ষাগারে যাওয়ার আগেই কোনো সম্ভাব্য ওষুধ বা উপাদান বাস্তবে কেমন আচরণ করতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা পান।
প্রতিষ্ঠানটির এআই সিমুলেশন বিভাগের প্রধান নাদিয়া হারহেন বলেন, “প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক মডেল এখন স্বাভাবিক ভাষায় ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। আগে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বিশেষ অবকাঠামো প্রয়োজন হতো।”
তিনি জানান, স্যান্ডবক্সএকিউর প্রধান গ্রাহক হচ্ছেন গবেষক, গণনাভিত্তিক বিজ্ঞানী এবং বড় ওষুধ বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষামূলক গবেষণা দল। নতুন উপাদান বা ওষুধ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে জটিল সমস্যার সমাধান দিতেই তারা এই প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে ওষুধ গবেষণা, জ্বালানি, উন্নত উপকরণ এবং আর্থিক বিশ্লেষণসহ বহু খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও সহজ ও বিস্তৃত হতে পারে।