- ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
আর্জেন্টিনার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টার টানা আলোচনার পর বিতর্কিত শ্রম সংস্কার বিলটি অল্প ভোটের ব্যবধানে পাস করেছে। এ সিদ্ধান্তকে প্রেসিডেন্ট Javier Milei-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার ভোরে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিলের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়, যার ফলে বহু কারখানা, ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এবং রাজধানী বুয়েনস আইরেসে গণপরিবহন আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।
প্রেসিডেন্টের দল La Libertad Avanza-এর আইনপ্রণেতারা দাবি করছেন, নতুন আইন শ্রমবাজারকে আধুনিক করবে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে কর্মদিবস ৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা করার সুযোগ, ওভারটাইমের নগদ পরিশোধের বদলে ‘টাইম ব্যাংক’ পদ্ধতি চালু, ছুটির কাঠামোয় পরিবর্তন এবং চাকরিচ্যুতির ক্ষতিপূরণে সীমা নির্ধারণ।
সমর্থকদের মতে, এসব পরিবর্তন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বিপুল জনগোষ্ঠীকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে সহায়ক হবে। তবে বিরোধী দল ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আইনটি শ্রমিকদের অধিকার সংকুচিত করবে এবং দর-কষাকষির ক্ষমতা কমিয়ে দেবে।
বিরোধী জোট Union por la Patria-এর নেতারা বলছেন, ‘টাইম ব্যাংক’ ব্যবস্থা বিশেষ করে নিম্নআয়ের কর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ অনেকেই ওভারটাইমের অর্থের ওপর নির্ভরশীল। তাদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তন কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়াবে।
শ্রমবাজারে অস্থিরতা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দেশটি গভীর অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্যে দেখা গেছে, গত দুই বছরে হাজার হাজার ছোট ও মাঝারি ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং লক্ষাধিক মানুষ চাকরি হারিয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিলটির পাস হওয়া প্রেসিডেন্ট মাইলেইর জন্য শক্ত অবস্থান প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে “ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে আইনটি এখন সিনেটে পুনর্বিবেচনার জন্য যাবে এবং সেখানে সংশোধনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তা কার্যকর হবে।
রাজধানীতে বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সার্বিকভাবে, শ্রম সংস্কার বিলটি আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে—তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।