Friday, February 20, 2026

ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি: মার্কিন হামলা হলে ‘সিদ্ধান্তমূলক জবাব’


ছবিঃ ট্রাম্প ইরানকে ১০-১৫ দিনের আলটিমেটাম দিলেন, না হলে “খারাপ ঘটনা ঘটবে (সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ‘দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা হুমকির নিন্দা জানাতে আহ্বান জানান। চিঠিটি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস–এর কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ইরানি দূত তার চিঠিতে বলেন, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধসামগ্রী মোতায়েন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের বক্তব্যকে কেবল রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

তবে ইরান যুদ্ধ চায় না বলে স্পষ্ট করেন ইরাভানি। তার ভাষ্য, তেহরান কোনো সংঘাত শুরু করতে আগ্রহী নয়। কিন্তু দেশটির ওপর হামলা হলে অঞ্চলজুড়ে ‘শত্রুপক্ষের সব ঘাঁটি ও স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে একটি ‘অর্থবহ চুক্তি’ সম্পাদনের জন্য ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সময়সীমাই সর্বোচ্চ ধরা যেতে পারে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, গত বছরের যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত হয়েছিল। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে না আনলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষ কিছু মৌলিক নীতিগত বিষয়ে বিস্তৃত সমঝোতায় পৌঁছেছে।

তবু কূটনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার হওয়ায় উত্তেজনা কমেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই বিপজ্জনক, তবে সেটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতাই আরও ভয়ংকর শক্তি।

২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের ইস্যুতে কড়া অবস্থান, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং সামরিক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। যদিও ওমানে প্রথম দফা বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশ আলোচনায় ফিরেছে, তবু সামরিক ও কূটনৈতিক বার্তার দ্বৈততা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন