- ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত Mike Huckabee ইসরায়েলের সম্ভাব্য ভূখণ্ড সম্প্রসারণ নিয়ে মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েল যদি মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়, তাতে তাঁর আপত্তি থাকবে না—এমন মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক Tucker Carlson-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বাইবেলভিত্তিক ভূখণ্ডের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন হাকাবি। আলোচনায় এমন একটি মানচিত্রের প্রসঙ্গ আসে, যেখানে ইসরায়েলের সীমানা ইউফ্রেটিস নদী থেকে নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে উল্লেখ করা হয়। এই অঞ্চল বর্তমান লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবের অংশবিশেষকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
প্রশ্নের জবাবে হাকাবি বলেন, “ওরা চাইলে পুরোটা নিলেও সমস্যা নেই।” তবে উপস্থাপকের পুনঃপ্রশ্নের পর তিনি কিছুটা সুর নরম করে বলেন, এটি কিছুটা অতিরঞ্জিত মন্তব্য ছিল। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি ইসরায়েল আক্রান্ত হয়ে যুদ্ধে জয়ী হয় এবং সেই প্রেক্ষাপটে ভূখণ্ড দখল করে, তাহলে সেটি আলাদা আলোচনার বিষয় হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ভূখণ্ড দখল অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। ২০২৪ সালে International Court of Justice রায় দেয় যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা বন্ধ করা উচিত।
ইসরায়েলের সীমানা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনেও স্পষ্ট সীমারেখা নেই। ১৯৮১ সালে সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেয় ইসরায়েল, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। এই দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর লেবাননের ভেতরেও কয়েকটি স্থানে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি দেখা গেছে।
ইসরায়েলের কিছু রাজনীতিক, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর নামও রয়েছে, অতীতে বৃহত্তর ইসরায়েলের ধারণা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী Bezalel Smotrich ২০২৩ সালে এমন একটি মানচিত্র প্রদর্শন করে সমালোচনার মুখে পড়েন, যেখানে প্রতিবেশী দেশের অংশবিশেষকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে হাকাবি আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা International Criminal Court ও আইসিজের সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, এসব প্রতিষ্ঠান ন্যায্যভাবে আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে হাকাবি তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট সোচ্চার নন—এমন অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নৌ-বিশ্লেষক Jonathan Pollard-এর সঙ্গে বৈঠক করায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। পোলার্ড গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ৩০ বছর কারাভোগের পর ইসরায়েলে চলে যান। হাকাবি অবশ্য বলেন, তিনি পোলার্ডের সব মতের সঙ্গে একমত নন, তবে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অনুতপ্ত নন।
হাকাবির মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।