Tuesday, April 28, 2026

মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে ঝড়, ‘মাইকেল’ নিয়ে দর্শক উচ্ছ্বাস


ছবিঃ ‘মাইকেল’–এ জাফর জ্যাকসন (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

পপসংগীতের কিংবদন্তি Michael Jackson–এর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ মুক্তির পরপরই বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছে। ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির দিনেই ছবিটি প্রায় ৩৯.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা সপ্তাহান্তে গিয়ে ৯৫ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংগীতনির্ভর বায়োপিকের ক্ষেত্রে এটি নতুন রেকর্ড গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে Bohemian Rhapsody ও Straight Outta Compton–এর মতো চলচ্চিত্র বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও ‘মাইকেল’ সেগুলোকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটির দাপট চোখে পড়ার মতো। ৮০টির বেশি দেশে মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী আয় ২০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান Lionsgate–এর জন্য এটি মহামারির পর সবচেয়ে বড় ওপেনিং, যা তাদের ব্যবসায়িক অবস্থার জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবিটি নিয়ে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকেই মনে করছেন, শিল্পীর জীবনের বিতর্কিত দিকগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের আলোচিত অভিযোগগুলো চলচ্চিত্রে খুব গভীরভাবে দেখানো হয়নি।

তবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া একেবারেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। প্রেক্ষাগৃহে গান ও নাচে দর্শকদের অংশগ্রহণ ছবিটিকে এক ধরনের উদ্‌যাপনে পরিণত করেছে। অনেক দর্শকের মতে, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং স্মৃতিময় এক অভিজ্ঞতা, যা তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ‘Billie Jean’ ও ‘Thriller’–এর সোনালি সময়ে।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন Antoine Fuqua এবং প্রযোজনায় ছিলেন Graham King। ছবির প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ভাতিজা Jaafar Jackson। নাচ, ভঙ্গি ও কণ্ঠস্বরের দিক থেকে তাঁর অভিনয় ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ছবিটির নির্মাণযাত্রা ছিল নানা জটিলতায় ভরা। আইনি বাধা ও চিত্রনাট্যে পরিবর্তনের কারণে একাধিকবার শুটিং করতে হয়েছে, যার ফলে বাজেট বেড়ে প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনর্নির্মাণ করতে হয়েছে আইনি জটিলতার কারণে।

ফলে নির্মাতারা গল্পের ফোকাস পরিবর্তন করে শিল্পীর পারিবারিক সম্পর্ক—বিশেষত তাঁর বাবা জো জ্যাকসনের সঙ্গে সম্পর্ক—নিয়ে বেশি গুরুত্ব দেন, যা চলচ্চিত্রে আবেগঘন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, মাইকেল জ্যাকসনের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। দ্বিতীয়ত, চলচ্চিত্রটি দর্শকের আবেগ ও নস্টালজিয়াকে লক্ষ্য করে নির্মিত। তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচারণা ছবিটির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘মাইকেল’ শুধু একটি বায়োপিক নয়—এটি এক যুগের পুনরাবৃত্তি। সমালোচনা থাকলেও দর্শকপ্রিয়তায় ছবিটি ইতোমধ্যে বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে গেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন