Monday, January 19, 2026

মহাকাশে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি: ৪,৪০০-এর বেশি গবেষণার ভিত্তিতে নতুন আবিষ্কার


ছবিঃ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে কক্ষপথে দেখা প্রশান্ত মহাসাগর (ছবি সৌজন্যে: ডন পেটিট / নাসা) (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

পৃথিবীর প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে ছুটে চলেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও জটিল প্রকৌশল কাঠামো, যা টানা ২৫ বছর ধরে কক্ষপথে মানুষের বসবাস নিশ্চিত করেছে। ২০০০ সালের ২ নভেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও আইএসএস খালি থাকেনি। অর্থাৎ, ওই তারিখের পর জন্ম নেওয়া প্রত্যেক মানুষের জীবনে সবসময়ই কেউ না কেউ মহাকাশে থেকেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান ও কানাডার যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই স্টেশন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ। তবে এই পথচলা সহজ ছিল না প্রযুক্তিগত জটিলতা, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক বিতর্ক পেরিয়েই আজকের আইএসএস।

২৭ বছর আইএসএসের সবচেয়ে পুরোনো মডিউল ‘জারিয়া’ ১৯৯৮ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটিই ছিল স্টেশনের সূচনা।

৩ জন ২০০০ সালে প্রথম অভিযানে তিনজন নভোচারী বিল শেফার্ড, সের্গেই ক্রিকালেভ ও ইউরি গিদজেনকো আইএসএসে প্রবেশ করেন। তখন স্টেশন ছিল মাত্র তিনটি মডিউলের সমষ্টি।

৪২টি স্টেশনটি গঠনে মোট ৪০টির বেশি মহাকাশযান ও অ্যাসেম্বলি ফ্লাইট প্রয়োজন হয়েছে।

৩৮৮ ঘনমিটার আইএসএসের বাসযোগ্য ভেতরের জায়গা প্রায় ছয় শয়নকক্ষের একটি বাড়ির সমান। তবে ওজনহীন পরিবেশে দেয়াল, ছাদ বা মেঝের ধারণা প্রায় অর্থহীন।

২ ঘণ্টা নভোচারীদের প্রতিদিন গড়ে দুই ঘণ্টা ব্যায়াম করতে হয়। দীর্ঘ সময় ওজনহীনতায় থাকলে হাড় ও পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই ব্যায়াম বাধ্যতামূলক।

৯৮ শতাংশ শ্বাস, ঘাম ও প্রস্রাব থেকে উৎপন্ন পানির প্রায় ৯৮ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়। আজকের ব্যবহৃত পানি কালকের পানীয়তে রূপ নেয় এটাই আইএসএসের বাস্তবতা।

৪,৪০০-এর বেশি আইএসএসে করা গবেষণার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে হাজারো বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রবন্ধ, যা চিকিৎসা, উপাদান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত খুলেছে।

৭০ বছর আইএসএসে বসবাস করা সবচেয়ে বেশি বয়সী নভোচারীর বয়স ছিল ৭০ বছর। এতে প্রমাণ হয়েছে, বয়স নয় দক্ষতাই মহাকাশ অভিযানের মূল চাবিকাঠি।

৩৭১ দিন একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ আইএসএস মিশনের রেকর্ড ৩৭১ দিনের। দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকা মানুষের সহনশীলতার বড় পরীক্ষা।

৪টি টয়লেট স্টেশনে মোট চারটি টয়লেট রয়েছে। মহাকাশে টয়লেট ঠিক রাখা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নভোচারীরা বারবারই বুঝেছেন।

১৩ জন পেশাদার নভোচারীদের বাইরে ১৩ জন বেসরকারি অংশগ্রহণকারীও আইএসএসে গেছেন। তবে ‘স্পেস ট্যুরিস্ট’ হলেও তাঁদের কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

১৬ বার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত আইএসএস দিনে ১৬ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। ফলে নভোচারীরা প্রতিদিন ১৬টি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখেন।

১৫০ বিলিয়ন ডলার এখন পর্যন্ত আইএসএস নির্মাণ ও পরিচালনায় আনুমানিক ব্যয় হয়েছে ১৫০ বিলিয়ন ডলার। এই বিনিয়োগ কতটা সার্থক তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে আইএসএস অনন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএসএস শুধু একটি মহাকাশ গবেষণাগার নয়; এটি প্রমাণ করে যে ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতির দেশগুলো চাইলে একসঙ্গে কাজ করে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে। ভবিষ্যতে আইএসএসের জায়গা নিতে আসছে নতুন মহাকাশ স্টেশন ও চন্দ্রাভিযান তবে মানবজাতির কক্ষপথে দীর্ঘ বসবাসের প্রথম অধ্যায় হিসেবে আইএসএস ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন