- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির মধ্যে ইরান জানিয়েছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে নতুন সংঘাত এড়াতে আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। বাঘাই বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই ইরানের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার।
এই সফর এমন এক সময় হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপকূলবর্তী অঞ্চলে নৌবহর মোতায়েনকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে ওই বহর ইরানের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
এদিকে ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচার বিভাগীয় শীর্ষ মহল থেকে ধারাবাহিকভাবে কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে। দেশটির জ্যেষ্ঠ আলোচক দলের সদস্য কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়, বরং শতভাগের বেশি প্রস্তুতি নিয়ে দেশ রক্ষাই ইরানের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু বার্তা আদান-প্রদান হলেও সম্ভাব্য যেকোনো হামলার জবাব দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান তার সামরিক সক্ষমতাও জোরালোভাবে তুলে ধরছে। বৃহস্পতিবার ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বহরে এক হাজার নতুন কৌশলগত ড্রোন যুক্ত হয়েছে। এসব ড্রোনের মধ্যে আত্মঘাতী, যুদ্ধ, নজরদারি ও সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি রয়েছে, যা স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
সেনাপ্রধান আমির হামাতি এক বিবৃতিতে বলেন, সম্ভাব্য হুমকির মাত্রা বিবেচনায় রেখে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা বাড়ানোই সেনাবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)ও আগেই জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত হানতে সক্ষম।
তবে কড়া অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা বলছেন, আরেকটি যুদ্ধ শুরু হলে এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই। এক শিক্ষার্থী বলেন, “নতুন যুদ্ধ মানেই ধ্বংস আর প্রাণহানি। আমরা চাই না আবার রক্ত ঝরুক।”
সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সরকার বেসামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করছে। সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর গভর্নরদের জরুরি পণ্য আমদানির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তেহরান সিটি করপোরেশন ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আগের মতো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও আগের সংঘাতের সময় ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা যদি সহিংসতায় রূপ নেয়, তবে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের জন্যই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই শেষ পর্যন্ত কূটনীতিই হবে সংঘাত এড়ানোর একমাত্র পথ—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।