Tuesday, June 16, 2026

মানবতাবিরোধী অপরাধে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের সাবেক প্রেসিডেন্টের বিচার শুরু


ছবিঃ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া বোজিজের বিরুদ্ধে বিচারকার্য অনুপস্থিতিতেই শুরু হতে চলেছে, কারণ তিনি ২০২৩ সাল থেকে গিনি-বিসাউতে নির্বাসনে রয়েছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক (সিএআর)-এ জাতিসংঘ সমর্থিত একটি বিশেষ আদালতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া বোজিজে’র বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হত্যা, গুম, নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ।

বোজিজে ২০০৩ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এবং এক দশক পর বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হন। বর্তমানে তিনি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন বলে জানা গেছে।

রাজধানী বাঙ্গুইয়ে অবস্থিত স্পেশাল ক্রিমিনাল কোর্ট (SCC)-এ এই বিচার কার্যক্রম চলছে। এটি একটি মিশ্র বিচারিক কাঠামো, যেখানে সিএআর ও আন্তর্জাতিক বিচারকরা দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালত ২০২৪ সালে বোজিজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তদন্তে বলা হয়, তার প্রেসিডেন্ট গার্ড বাহিনী বেসামরিক কারাগার ও একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল।

বিচারকদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বোজিজের বিরুদ্ধে “গুরুতর ও ধারাবাহিক প্রমাণ” পাওয়া গেছে, যা তার সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে।

১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই সিএআর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাতে জর্জরিত। ২০১৩ সালে বোজিজেকে উৎখাতের পর মুসলিম-প্রধান বিদ্রোহী জোট সেলেকা ক্ষমতা দখল করলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

এর জবাবে বোজিজে সমর্থক খ্রিস্টান ও অ্যানিমিস্ট মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘অ্যান্টি-বালাকা’ গড়ে ওঠে, যা সংঘাতকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

দেশছাড়া হওয়ার পর বোজিজে প্রথমে ক্যামেরুন এবং পরে চাদ হয়ে গিনি-বিসাউয়ে আশ্রয় নেন। তবে ২০১৯ সালে তিনি দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে সাংবিধানিক আদালত তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের কারণে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করে।

২০২০ সালের শেষ দিকে তিনি আবারও একটি বিদ্রোহী জোটের নেতৃত্ব দেন, যা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাতে জড়ায়। পরবর্তীতে রাশিয়ার বেসরকারি সামরিক বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের সহায়তায় সরকার বিদ্রোহ দমন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিচার সিএআর-এর দীর্ঘদিনের সংঘাত, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে বোজিজে অনুপস্থিত থাকায় বিচার কতটা কার্যকর ও বাস্তব ফল বয়ে আনবে, তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।

বর্তমানে মামলার শুনানি অব্যাহত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল এই প্রক্রিয়ার দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন