- ০৫ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারের সময় বাধা দেওয়া নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে স্থানীয় পোদ্দার বাজার এলাকায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা একটি বাড়িতে প্রচার চালাতে গেলে সেখানে বাধার মুখে পড়েন। এ নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে আহতদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াত নেতা মাইন উদ্দিন, আবু তৈয়ব, যুব বিভাগের নেতা মো. তারেক, জুয়েল হোসেন, রিয়াদ হোসেন ও রুবেল হোসেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতে সদর হাসপাতালে যান লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া। তিনি এ সময় হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সদর উপজেলা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন দাবি করেন, ধানের শীষের পক্ষে প্রচারের সময় জামায়াতের কয়েকজন নেতা সেখানে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয়নি এবং বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির ফল।
জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, “মাঠে বিএনপির সমর্থন কমে যাওয়ায় তারা সহিংসতায় জড়াচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”
বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “বশিকপুরে যা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। ভুল বোঝাবুঝি থেকেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, প্রচারকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের জন্য পোদ্দার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।