- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
লিঙ্কডইনের নতুন কনটেন্ট অ্যালগরিদম ঘিরে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নারী কনটেন্ট নির্মাতা দাবি করেছেন, প্রোফাইলে নিজের লিঙ্গ নারী থেকে পুরুষে পরিবর্তন করার পর হঠাৎ করেই তাদের পোস্টের রিচ ও ইমপ্রেশন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।
নভেম্বর মাসে এমনই এক পরীক্ষায় অংশ নেন একজন প্রোডাক্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট, যাকে ছদ্মনামে ‘মিশেল’ বলা হচ্ছে। তিনি নিজের লিঙ্কডইন প্রোফাইলের নাম ও লিঙ্গ বদলে ‘মাইকেল’ হিসেবে পোস্ট করা শুরু করেন। তার দাবি, অনুসারী সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও আগে তার পোস্ট যতটা না ছড়াত, লিঙ্গ পরিবর্তনের পর তা দ্রুতই বেড়ে যায়। তার ভাষায়, “সবকিছু একই ছিল, শুধু লিঙ্গ বদলেছিল।”
এই পরীক্ষাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হয় #WearThePants নামে। এতে আরও কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী অংশ নেন। তাদের মধ্যে মারিলিন জয়নার জানান, প্রোফাইলে লিঙ্গ পরিবর্তনের এক দিনের মধ্যেই তার পোস্টের ইমপ্রেশন প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে যায়। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন নারী ব্যবহারকারী।
তবে লিঙ্কডইন কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি সরাসরি নাকচ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের অ্যালগরিদম কনটেন্ট দেখানোর ক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ বা জাতিগত পরিচয়ের মতো কোনো ডেমোগ্রাফিক তথ্য ব্যবহার করে না। বরং ব্যবহারকারীর আচরণ, নেটওয়ার্ক, আগ্রহ ও কনটেন্টের প্রাসঙ্গিকতাই এখানে মূল ভূমিকা রাখে।
ডেটা নৈতিকতা ও অ্যালগরিদম বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। ব্র্যান্ডাইস মার্শাল নামে এক ডেটা এথিক্স বিশেষজ্ঞের মতে, আধুনিক সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলো অসংখ্য অদৃশ্য ‘সিগনাল’ ও আচরণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কনটেন্ট ছড়িয়ে দেয়। নাম, প্রোফাইল ছবি কিংবা লেখার ভঙ্গি—সবই এখানে প্রভাব ফেলতে পারে।
কিছু গবেষকের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ভাষা মডেলগুলো মানুষের লেখা কনটেন্ট থেকেই প্রশিক্ষিত হওয়ায় সেখানে মানবসমাজের বিদ্যমান পক্ষপাত প্রতিফলিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে সরাসরি লিঙ্গের ভিত্তিতে নয়, বরং লেখার ধরন, ভাষার সরলতা বা দৃঢ়তার মতো বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেও পরোক্ষ পক্ষপাত তৈরি হতে পারে।
লিঙ্কডইনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্ল্যাটফর্মে পোস্ট ও মন্তব্যের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে ফিডে জায়গা পাওয়া এখন আগের চেয়ে বেশি প্রতিযোগিতামূলক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ক্যারিয়ারভিত্তিক বিশ্লেষণ, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট বর্তমানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে ব্যবহারকারীদের একাংশ বলছেন, অ্যালগরিদমের এই পরিবর্তন তাদের জন্য বিভ্রান্তিকর ও হতাশাজনক হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন নিয়মিত পোস্ট করেও অনেকে এখন আগের মতো সাড়া পাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট বিষয় ও নির্দিষ্ট শ্রোতাদের লক্ষ্য করে লিখে উল্টো বেশি রিচ পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে প্রশ্নটি এখনো খোলা—লিঙ্কডইনের নতুন অ্যালগরিদম কি অজান্তেই কোনো পক্ষপাতকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, নাকি এটি কেবল ব্যবহারকারীদের আচরণ ও কনটেন্টের ইতিহাসকেই প্রতিফলিত করছে? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না মিললেও এক বিষয়ে সবাই একমত—অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যবহারকারীদের কৌতূহল ও অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে।