- ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের বিমান খাতে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন যাত্রীরা, একই সঙ্গে আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে।
রাজশাহী-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রী ও শিক্ষক-গবেষক সৈয়দা বদরুন নেসা বলেন, আগে যে টাকায় যাওয়া-আসা করা যেত, এখন সেই অর্থে একমুখী টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসার প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রী লায়লা আরজুমান্দ হকও। তাদের অভিযোগ, কয়েক মাসের ব্যবধানে ভাড়া কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বিমান খাতে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিটের দাম গড়ে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আর আন্তর্জাতিক রুটে এই বৃদ্ধি আরও বেশি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্য—চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার কিংবা সৈয়দপুর—সব রুটেই ভাড়া বেড়েছে। আগে যেখানে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় টিকিট পাওয়া যেত, এখন তা ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার নিচে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শেষ মুহূর্তে বুকিং করলে ভাড়া ১০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেট ফুয়েলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সমন্বয় ছাড়া উপায় ছিল না। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার এবং এয়ার অ্যাস্ট্রা—সবগুলো প্রতিষ্ঠানই বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া না বাড়ালে ফ্লাইট পরিচালনা টেকসই রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দেশে জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা এই খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পেও; বিশেষ করে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ভ্রমণ অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক রুটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অস্থিরতা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক দেশের আকাশসীমা সীমিত বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ওই অঞ্চলে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটেছে। এতে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যাও বেড়েছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান খাতকে স্থিতিশীল রাখতে জেট ফুয়েলের ওপর কর ও ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডলার সংকট মোকাবিলায় এয়ারলাইনসগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা না এলেও সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।