- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১১ দিনের ব্যবধানে অন্তত ১৬ জন নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও তাদের কারও পদত্যাগপত্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। বরং দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব পদত্যাগী নেতাদের ফেরাতে যোগাযোগ ও আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে এনসিপির যুক্ত হওয়ার ঘোষণা আসে। এর আগের দিন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে জামায়াতের সঙ্গে জোটে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ৩০ জন নেতা স্মারকলিপি দেন। ওই দিনই এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য তাসনিম জারা দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে একমাত্র তাসনিম জারাই দলের বাইরে থেকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হন। তবে ঢাকা-৯ আসনে তার দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তার সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন স্বামী ও এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার মধ্যেই ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এনসিপি ছাড়েন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক। তিনি দলের জামায়াতবিরোধী অংশের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এ ছাড়া পদত্যাগ করা নেতাদের তালিকায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও তাজনূভা জাবীন, মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, যুগ্ম সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, যুগ্ম সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামান, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের নেতা।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, তাঁদের অনেকেই আবার দলে ফিরে আসবেন।”
দলীয় সূত্র জানায়, পদত্যাগের ঘটনাগুলোকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছে নেতৃত্ব। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার পেছনের রাজনৈতিক যুক্তি দলের একটি অংশের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়নি বলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। সে কারণেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে আলোচনার মাধ্যমে নেতাদের ফেরানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে গত শুক্রবার, যখন পদত্যাগী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি আর হয়নি। পদত্যাগী এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈঠকের পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ্যে চলে আসায় বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ, দলের ভেতরের একটি অংশ জামায়াতবিরোধী নেতাদের ফেরার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।
এদিকে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতাকে কেন্দ্র করে এনসিপির কয়েকজন নারী নেত্রীও প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন দলীয় মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সব মিলিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন এনসিপির ভেতরে যে রাজনৈতিক চাপ ও বিভাজন তৈরি করেছে, তা সামাল দিতে এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।