- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত ইলন মাস্কের জন্য টেসলার ২০১৮ সালের বিতর্কিত বেতন প্যাকেজ পুনর্বহাল করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক রায়ে ডেলাওয়ার সুপ্রিম কোর্ট গত বছর চ্যান্সারি কোর্টের দেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়, যার ফলে মাস্কের প্রায় ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক আবার কার্যকর হলো।
সর্বসম্মত রায়ে আদালতের বিচারকরা বলেন, ছয় বছরের বেশি সময় ধরে টেসলার জন্য ইলন মাস্ক যে শ্রম ও সময় ব্যয় করেছেন, তার বিনিময়ে তাঁকে কোনো পারিশ্রমিক না দেওয়া অন্যায় হতো। বর্তমান শেয়ারবাজার পরিস্থিতিতে টেসলার শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোয় এই প্যাকেজের মূল্য এখন প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে মাস্কের পারিশ্রমিক ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মামলাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ প্রকাশ করে এর আগেই ইলন মাস্ক টেসলার নিবন্ধন ডেলাওয়ার থেকে সরিয়ে টেক্সাসে নিয়ে যান, যা অনুসরণ করে আরও কয়েকটি কোম্পানি একই পথ বেছে নেয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মাস্ক লেখেন, “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি টেসলার এক শেয়ারহোল্ডারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পক্ষে সরব ছিলেন।
এদিকে, এই রায়ের ফলে চলতি বছরের শুরুতে টেসলা যে বিকল্প হিসেবে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের একটি পারিশ্রমিক প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটি বাতিল করা হতে পারে। ওই প্রস্তাবটি মূলত আদালতে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদিত প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের একটি আলাদা প্রণোদনা কাঠামো বহাল থাকবে, যেখানে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ সাপেক্ষে মাস্ক ধাপে ধাপে পারিশ্রমিক পাবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী টেসলার বাজারমূল্য, রাজস্ব ও মুনাফা সংক্রান্ত একাধিক কঠিন লক্ষ্য অর্জনের শর্ত ছিল। মাস্ক ও টেসলা এসব লক্ষ্য পূরণ করলেও একজন ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার আদালতে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই চুক্তি যথাযথভাবে আলোচনার মাধ্যমে হয়নি এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থসংঘাত সম্পর্কে পুরোপুরি জানানো হয়নি।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চ্যান্সারি কোর্ট মাস্কের বেতন প্যাকেজ বাতিল করেন। পরে শেয়ারহোল্ডাররা বার্ষিক সভায় এটি পুনরায় অনুমোদন দিলেও আদালত সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপরই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়, যেখানে শেষ পর্যন্ত মাস্কের পক্ষেই রায় এলো।