Friday, February 13, 2026

‘হ্যাঁ’ জয়ী, একক ক্ষমতার যুগে লাগাম টানার প্রস্তাব পাস


প্রতীকী ছবিঃ গণভোট (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট। এর ফলে জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাবিত সংবিধানসংক্রান্ত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম হলো।

আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মোট ১২ কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করছে রাষ্ট্র। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতায় কিছু সীমা আরোপ এবং রাষ্ট্রপতির নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে স্বাধীন নিয়োগক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী অধিকাংশ নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত।

সংস্কার কার্যকর হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে নিয়োগ দিতে পারবেন। একই সঙ্গে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল এবং কিছু ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির ভূমিকা থাকবে।

জুলাই জাতীয় সনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ গঠিত হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে এককভাবে কোনো দলের পক্ষে সংবিধান পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে উঠবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এ ছাড়া সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানে স্বাধীনতার পরিধি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে, যা আইনসভায় মতপ্রকাশ ও ভিন্নমতের সুযোগ বৃদ্ধি করতে পারে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। পরবর্তী সময়ে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।

প্রথম ধাপে রাষ্ট্রপতি গত ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হলো গণভোট। এখন তৃতীয় ধাপে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ। সংসদ সদস্যরাই পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় দলীয় প্রধান না থাকার বিধানও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে এ প্রস্তাব নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত ছিল বলে জানা গেছে।

গণভোটের ফলাফলের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের রাজনৈতিক ও নৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট খসড়া এবং বাস্তবায়নের সময়সীমার ওপর। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য কতটা সফল হয়, সেটিই হবে পরবর্তী সময়ের বড় প্রশ্ন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন