- ১৬ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইতালিতে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখ ও জেনোভাভিত্তিক অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ হাননুনকে ঘিরে একটি মামলা ইউরোপজুড়ে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর থেকে তিনি ইতালিজুড়ে ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
জর্ডানীয় নাগরিক হাননুন, যিনি পেশায় একজন স্থপতি, ইতালিতে ফিলিস্তিন অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশ নেন। এসব কর্মসূচিতে তিনি ইতালির সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার সমালোচনা করেন এবং গাজায় সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ “অপারেশন ডোমিনো” নামের একটি অভিযানের অংশ হিসেবে হাননুনসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগে বলা হয়, তার পরিচালিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে প্রায় ৭ মিলিয়ন ইউরো সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে হামাসের কাছে পৌঁছেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ওই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে একে “সন্তোষজনক পদক্ষেপ” বলে মন্তব্য করেছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে হাননুনকে একটি “নেটওয়ার্কের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে ইতালির সুপ্রিম কোর্ট অব ক্যাসেশন পরবর্তীতে মামলার প্রমাণ পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেয় এবং প্রমাণকে “অপর্যাপ্ত ও অস্পষ্ট” বলে উল্লেখ করে।
মামলার আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন, আদালতে উপস্থাপিত অনেক তথ্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্র থেকে আসা এবং এর যথাযথ যাচাই বা চেইন অব কাস্টডি নেই। কিছু নথি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করা হার্ডড্রাইভের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছে, যা হাসপাতাল ও বিভিন্ন গাজার স্থাপনা থেকে নেওয়া হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের “যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য” আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যাচাই ছাড়া আদালতে ব্যবহার করা হলে তা আইনের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের পর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের ওপর নজরদারি ও দমনমূলক ব্যবস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কিছু সংগঠন দাবি করেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও জননিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি সীমিত করা হচ্ছে এবং অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে মামলা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাকে ঘিরে মূল বিতর্কটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমারেখা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
একদিকে অভিযোগকারীরা বলছেন, অর্থায়নের মাধ্যমে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা করা হয়েছে; অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ব্যবহার করে ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে।
এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি, তবে এটি ইতালিসহ ইউরোপের রাজনৈতিক ও আইনগত পরিসরে ফিলিস্তিন ইস্যুকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।