Monday, January 19, 2026

ফেডারেল নিয়ন্ত্রণের পথে এআই: ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশ ঘিরে উদ্বেগে স্টার্টআপরা


ছবিঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে রাজ্যভিত্তিক আইনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়ে নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদেশে বলা হয়েছে, এআই আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যের অংশ হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ ফেডারেল পর্যায়ে হওয়া উচিত। তবে আইন বিশেষজ্ঞ ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির বদলে অনিশ্চয়তাই বাড়াতে পারে।

‘এনশিউরিং আ ন্যাশনাল পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শিরোনামের ওই আদেশ অনুযায়ী, বিচার বিভাগকে ৩০ দিনের মধ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স রাজ্য পর্যায়ের কিছু এআই আইনকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য বিভাগকে ৯০ দিনের মধ্যে ‘অতিরিক্ত কঠোর’ রাজ্য আইনগুলোর তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ফেডারেল তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ও ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনকে (এফসিসি) এমন মানদণ্ড খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যা রাজ্য আইনকে অগ্রাহ্য করে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর হতে পারে। প্রশাসনকে কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি অভিন্ন জাতীয় এআই আইন তৈরির উদ্যোগ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই আদেশ এমন সময়ে এলো, যখন কংগ্রেসে রাজ্যগুলোর এআই নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের একাংশের আশঙ্কা, ফেডারেল কাঠামো ছাড়া রাজ্যগুলোর হাত বেঁধে দিলে ভোক্তা সুরক্ষা দুর্বল হবে এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

সমালোচকরা বলছেন, আদেশটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ঝুঁকি কমানো নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থার মার্কিন নীতি প্রধান মাইকেল ক্লেইনম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এই উদ্যোগ সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, যারা ওয়াশিংটনে প্রভাব খাটিয়ে জবাবদিহি এড়াতে চায়।

তবে জাতীয় কাঠামোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিরাও স্বীকার করছেন, এই নির্বাহী আদেশ নিজে কোনো আইন তৈরি করছে না। আদালত কোনো রাজ্য আইন স্থগিত না করা পর্যন্ত সেগুলো কার্যকরই থাকবে। ফলে স্টার্টআপগুলোর জন্য একটি দীর্ঘ ও জটিল রূপান্তরকাল শুরু হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যগুলো তাদের ভোক্তা সুরক্ষা ক্ষমতা রক্ষায় আদালতে লড়বে এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। এতে করে নতুন উদ্যোক্তাদের একদিকে রাজ্য আইন, অন্যদিকে ফেডারেল নির্দেশনার মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলতে হবে।

স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা বলছেন, এই অনিশ্চয়তা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করবে ছোট কোম্পানিগুলোর। তাদের অনেকেরই ব্যয়বহুল আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার সক্ষমতা নেই। এআই গভর্ন্যান্স খাতে কাজ করা এক প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতার ভাষায়, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইনজীবী নিয়োগ করে ঝুঁকি সামলাতে পারে, কিন্তু ছোট স্টার্টআপের জন্য এই ধোঁয়াশা বিনিয়োগ, বিক্রি ও আস্থার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছেন, একটি ঝুঁকিভিত্তিক, লক্ষ্যভিত্তিক জাতীয় এআই আইনই পারে এই সংকট কাটাতে। তাদের মতে, রাজ্যভেদে ভিন্ন আইন যেমন সমস্যা তৈরি করে, তেমনি নির্বাহী আদেশ ঘিরে দীর্ঘ আদালতযুদ্ধও সমাধান নয়। দ্রুত কংগ্রেসের সমন্বিত উদ্যোগই এআই খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন