Monday, July 6, 2026

এটাই নতুন শুরুর সময়: বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরও আশাবাদী আনচেলত্তি


ফাইল ছবিঃ কার্লো আনচেলত্তি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই ব্রাজিলের বিদায় কোটি সমর্থকের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে এই হতাশাজনক পরিণতিকে শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন না সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তাঁর বিশ্বাস, বর্তমান ব্যর্থতাই ভবিষ্যতের শক্তিশালী ব্রাজিল দল গঠনের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

সোমবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। অতিরিক্ত সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি ব্রাজিল।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, এই ফল অবশ্যই হতাশাজনক, তবে পুরো টুর্নামেন্টে দলের পারফরম্যান্সকে ব্যর্থ বলা যাবে না। তাঁর মতে, ব্রাজিল বেশ কয়েকটি ম্যাচে ভালো ফুটবল খেলেছে এবং নরওয়ের বিপক্ষেও জয় পাওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেছিল।

ব্রাজিলের জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে থাকে প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হালান্ড। তাঁর জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয় নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়।

পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ম্যাচটি ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল নরওয়ে, কিন্তু আক্রমণ গড়ে তোলা, শট নেওয়া এবং গোলের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল না ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত সুযোগ কাজে লাগাতে না পারাই দলটির বিদায়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর আগেই বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে। এর আগে টানা আটটি বিশ্বকাপে অন্তত শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিল সেলেসাওরা।

তবু ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক আনচেলত্তি। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই ইতালিয়ান কোচ বলেন, একটি পরাজয় পুরো প্রকল্পকে বদলে দিতে পারে না। তাঁর বিশ্বাস, বর্তমান স্কোয়াডে দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়ার যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম, নতুন পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক উন্নয়নের বিকল্প নেই। ফুটবলে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয়, তবে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষাও আরও দীর্ঘ হলো। ২০০২ সালের পর এবার সেই অপেক্ষা গিয়ে দাঁড়াবে ২৮ বছরে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সেলেসাওদের হতাশার ধারাও অব্যাহত থাকল।

তবে আনচেলত্তির দৃষ্টিতে এই ব্যর্থতা শেষ নয়, বরং নতুন একটি যাত্রার সূচনা। তাঁর বিশ্বাস, বর্তমান দলের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ব্রাজিলকে আরও পরিণত ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন