- ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঠাকুরগাঁও
গত দেড় দশক ধরে বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের রাজনীতির কারণেই দেশে জামায়াতের উত্থান ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত থাকলে এবং মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরমপন্থী শক্তির উত্থান ঘটতে পারে—রাজনৈতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি স্বীকৃত একটি বিষয়। তাঁর ভাষ্য, বিগত সরকারের দমনমূলক নীতি, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা এবং অবাধ নির্বাচনের সুযোগ না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, জনগণ ইতিমধ্যে উগ্র রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাঁর মতে, দল ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার ও ৩১ দফা কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থনই সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের ভিত্তি তৈরি করেছে।
জাতীয় সরকার গঠন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা একসঙ্গে রাজপথে ছিলেন এবং যাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন করা হয়েছে, তাদের নিয়েই সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। জুলাই সনদের বিষয়ে তিনি জানান, যেসব প্রস্তাবে বিএনপি সম্মতি দিয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রংপুর বিভাগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর তুলনামূলক বেশি আসন পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর পেছনে আঞ্চলিক ও সাংগঠনিক নানা কারণ থাকতে পারে। তবে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের ১১টি আসনের সবকটিতেই বিএনপি জয় পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে এ ধরনের প্রবণতা মোকাবিলা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সাবেক সহসভাপতি আবু তাহের, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।